সময় কলকাতা ডেস্কঃ শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘন্টার জন্য যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করল রাশিয়া। ইউক্রেনের দুটি শহরে মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কৃষ্ণ সাগরের তীরে বন্দরশহর মারিউপোলের পাশাপাশি ভলনোভাকা শহরে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা করেছে পুতিনের সেনা বাহিনী। শনিবার মস্কোর স্থানীয় সময় বেলা ১০টা (ভারতীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টা)-য় এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়। আসলে এই যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করা হয়েছে একটি মানবিক কারণে, যেসব সাধারণ মানুষ ও বিদেশী পড়ুয়া যুদ্ধ ক্ষেত্রে আটকে পড়েছেন তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য করিডোর তৈরি করে দিতেই এই যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা করা রুশ সেনা বাহিনী। এর আগে ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধ বিরতির লক্ষ্যে বৈঠকে বসেও তা ব্যর্থ । তবে চলতি সপ্তাহেই বেলারুশে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের পরে রাজধানী কিয়েভ-সহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে একমত হয়েছিল। তারই ভিত্তিতে পুতিন বাহিনীর এই সিদ্ধান্ত বলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মহলের ধারনা।
এদিকে মারিউপোল শহরের জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লক্ষ।সেই শহরে রুশ সেনাবাহিনী গত কয়েকদিনে অনবরত স্থলপথে ও আকাশ পথে হামলা চালিয়েছে।যার জেরে বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। বহু সাধারণ নাগরিক জখম হয়েছেন। পাশাপাশি পানীয় জল খাবারের অভাব দেখা দেয়। বিনা বিদ্যুতে অন্ধকারের মধ্যে কোন রকমভাবে সাধারণ মানুষ বাঁচার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন এই মারিউপোল শহরে। 
ইউক্রেনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর খারসেন দখল করে নিলেও রুশ বাহিনী এখনও আরও দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ওডেসা ও মারিউপোল শহর দখল করতে পারেনি।তবে মারিউপোল ও ওডেসা এই দুটি শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমানহানায় বহু সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
দশম দিনে এসে রাশিয়া শেষ পর্যন্ত সাময়িক যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করল। কিন্তু কেন এই যুদ্ধ বিরতি? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মহলের ধারনা নিজেদের ‘মানবিক’ চেহারা তুলে ধরতেই তাদের এই যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা। কারণ এই মুহুর্তে পৃথিবীর ১৪১ টি দেশ রাশিয়ার এই দাদাগিরিকে মেনে নিতে পারেনি। এমনকি রাষ্ট্রপুঞ্জ রাশিয়ার এই অমানবিকতাকে স্বীকৃতিও দেয়নি। এদিকে যুদ্ধের ভয়াবহ ছবি যাতে নিজেদের দেশে প্রচারিত না হয়, সেই কারণে সমস্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিও রাশিয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।তাই পুতিন কিছুটা মুখ রক্ষার্থে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনাও জারি রেখেছে রাশিয়া। তবে পুতিনের এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা কবে কোথায় গিয়ে থামবে, তা কেউ জানেনা।


More Stories
বিশ্বকাপের নতুন মারাদোনা কে?
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ গোল্ডেন বুটের দৌড়, মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী কে?
সীমান্ত সমস্যা সমাধানে শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত দ্রুত পদক্ষেপে কোন বার্তা?