Home » বৈরিতা ভুলে,ভারতের প্রশংসায় পাকিস্থানী ছাত্রী, কিসের প্রশংসা ?

বৈরিতা ভুলে,ভারতের প্রশংসায় পাকিস্থানী ছাত্রী, কিসের প্রশংসা ?

সময় কলকাতা ডেস্কঃ সংঘর্ষ আর শান্তিরবার্তা এক সঙ্গে চলতে পারেনা।মোদী সরকারের এই অবস্থানে,দীর্ঘদিন ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে সরকারি স্তরে এক প্রকার বাক্যালাপ বন্ধ।কাশ্মীর থেকে আর্টিকেল ৩৭০ তুলে দেওয়ার পর ভারতের বিরুদ্ধে এক প্রকার ছায়া যুদ্ধের অবস্থান নিয়ে চলেছে পাকিস্থান।দু দেশের বানিজ্যও বন্ধ।শুধু মাত্র জীবন দায়ী ওষুধ পাকিস্থান আমদানী করে ভারত থেকে। কিন্তু ভারত হল এমন এক দেশ যে প্রতিবেশী দেশকে সবসময় সহমর্মিতা দেখিয়ে এসেছে, তাদের প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আবারও সেই সহমর্মিতার উদাহরন পাওয়া গেল  ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধে। এবার পাকিস্থানীদের সাহারা হয়ে উঠল ভারত।

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু্র পর থেকে দেখা যায় ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়া দেশের বহু নাগরিক আটকে পড়েন ইউক্রেনে।ভারত নিজেদের নাগরিকদের উদ্ধারে  শুরু করে “অপারেশন  গঙ্গা।” অপারেশন গঙ্গায় কেন্দ্রীয় সরকার চার মন্ত্রীকে ইউক্রেন সীমান্তে পাঠায়।তার পরেও প্রবল যুদ্ধের মাঝে ইউক্রেনের একাধিক শহরে আটকে পড়েন ভারতীয় সাধারন নাগরিক ও পড়ুয়ারা।তাদের বেশীর ভাগই চিকিৎসা বিজ্ঞানের পড়ুয়া।একের পর এক ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করে আটকে পড়া নাগরিকদের জন্য।সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয় ,ভারতীয়রা যেন ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তের দেশগুলিতে চলে আসেন।হাঙ্গেরী,রোমানিয়া,পোল্যান্ড ও স্লোভাকিয়া সরকারের সঙ্গে কথা বলে সহজেই ভারতীয়দের সীমান্ত পাড়ের ব্যবস্থা করে ভারত সরকার।সেই সময়ই দেখা যায় ভারতের জাতীয় পতাকা  হাতে নিয়ে ইউক্রেনের পথে পাকিস্থানীরা।এক প্রকার ভারতীয় তেরঙ্গা পতাকাই তখন ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের মাঝে পাকিস্থানীদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে।তারপরও প্রবল গোলা বর্ষনের মাঝে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ,সুমি সহ নানান শহরে আটক থাকেন ভারতীয়রা।

প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কির সঙ্গে কথা বলেন।সাময়িক যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করে রাশিয়া।সেই অল্প সময়ে অতি সক্রিয়তায় ভারতীয় দূতাবাস কর্মীরা উদ্ধার কাজ শুরু করে।এরই মাঝে কেন্দ্র জানিয়ে দেয় অপারেশন গঙ্গায় শুধু মাত্র ভারতীয় নয় ,ভারত উপমহাদেশের নাগরিকদেরও উদ্ধার করা হবে।আর তার জেরে পাকিস্থানীরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে পৌঁছতে পারলেন ইউক্রেন সীমান্তে।ভারতীয় দূতাবাস দ্বারা উদ্ধার হওয়া পাকিস্থানী ছাত্রী হলেন আস্মা শফিক।এক ভিডিও বার্তায় আস্মা জানান তিনি পাকিস্থানী ছাত্রী।যুদ্ধের মাঝে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আটকে পড়েন।তবে কঠিন সময় তাঁকে উদ্ধার করে ভারতীয় দূতাবাস কর্মীরা।আর তার জন্য ভারতীয় দূতাবাসকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তিনি।এক সঙ্গে কৃতজ্ঞতা প্রকাশও করেন তিনি।উদ্ধার হওয়ার পর ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান পাকিস্থানী ছাত্রী আস্মা শফিক ।সারা বিশ্ব আমার আত্মীয়।ভারতীয় দর্শনের এই স্পিরিটের আর এক উদাহরণ হয়ে থাকবে আস্মা শাফিকের এই ভিডিও বার্তা।

About Post Author