Home » পেশ হল রাজ্য বাজেট, নজর শিক্ষা, পাহাড়, কৃষি ও খেলাধূলায়

পেশ হল রাজ্য বাজেট, নজর শিক্ষা, পাহাড়, কৃষি ও খেলাধূলায়

সময় কলকাতা ডেস্কঃ  শুক্রবার ছিল বিধানসভায় রাজ্য বাজেট পেশ। এবারের রাজ্য বাজেট পেশ করলেন সম্প্রতি স্বাধীনভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দুপুর দুটো নাগাদ তিনি শুরু করেন রাজ্য বাজেট পেশ। আগামী চার বছর রাজ্যের কি কি ক্ষেত্রে কত বরাদ্দ করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকারের কি কি পরিকল্পনা রয়েছে সেই সমস্ত  কিছু বিষয় নিয়েই পেশ করেন রাজ্য বাজেট।

বিগত ৩ বছর করোনার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। রাজ্য সরকার এবার স্কুল শিক্ষাক্ষেত্রে ৩৫হাজার ১২৬ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করেছেন রাজ্য বাজেটে। গ্রন্থাগারের দিকেও এবার নজর দেওয়া হয়েছে, গ্রন্থাগার পরিষেবা উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা । মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৫হাজার৪ কোটি ৫ লক্ষ টাকা পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় ৫ হাজার ৮১১ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে এই বাজেটে। প্রযুক্তি শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১২৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন। এবার পাহাড়ের ক্ষেত্রে বরাদ্দ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর এর জন্য ১১৫৫৭কোটি টাকা। বরাবরই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের দিকে নজর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সে কারণেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে ৭৯৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই রাজ্য বাজেটে।

তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা মুখী করার জন্য যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়েছে রাজ্য বাজেট বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার ক্ষেত্রে ৭৪৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রাজ্য বাজেটে।

বন বিষয়ক উন্নয়নে ৯৩৮ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হলো রাজ্য বাজেট এর পাশাপাশি সুন্দরবন উন্নয়ন খাতেও বরাদ্দের পরিমান ৭২০ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বপ্নের প্রকল্প লক্ষী ভান্ডার যে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার তৎপরতার সঙ্গে চালাচ্ছে। সেই লক্ষী ভান্ডার ১ কোটি মানুষকে সাহায্য করার প্রস্তাব রাজ্য বাজেটে দেওয়া হয়েছে।
শহর ও পুর এলাকাগুলিতে উন্নয়নের জন্য রাজ্য বাজেটে ধার্য করা হয়েছে ১২৮১৮ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকার প্রস্তাব। করোনা আবহে ফ্ল্যাটবাড়ি কেনাবেচা যথেষ্ট ঘাটতি দেখা গিয়েছিল সে কথা মাথায় রেখেই ফ্ল্যাটবাড়ি কেনাবেচা কর ছাড়ের কথা ঘোষণা রাজ্য বাজেটে। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে স্ট্যাম্প ডিউটিতেও ছাড়ের বৃদ্ধি। ৩০ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২% ছাড় মিলবে আর সার্কেল রেটেও ছাড়ের পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১0 শতাংশ।

কৃষি ও কৃষি বিপণনে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের, কৃষি বিপণনে ৪৩০.৩০কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব এর পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে ৯৩১০.২০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

সিএনজি চালিত যানবাহন এর ক্ষেত্রেও দেওয়া হচ্ছে বিশেষ সুবিধা। রেজিস্ট্রেশনে ছাড় দেওয়া হয়েছে সিএনজিচালিত গাড়িতে। পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন ফি মকুবের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস এবং উপজাতিদের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ঘোষণা। উপজাতি উন্নয়নের জন্য ১০৪৯কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে রাজ্য বাজেট আর পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর জন্য ২১৭৮কোটি ৮২ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখলেন অর্থমন্ত্রী।

অতিমারী পরিস্থিতিতে সমস্ত ব্যবসার হাল বেহাল হওয়া সত্বেও রাজ্য সরকারের আয় বেড়েছে বলেই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৩.৭৬ গুণ।
প্রাণী সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বরাদ্দ হয়েছে ২৬৬কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা ।পাশাপাশি নারী ও শিশু কল্যাণ প্রকল্পে ১৭.৫ গুন বরাদ্দ বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার, যার পরিমাণ ১৯২৩৮কোটি ২৭ লক্ষ টাকা।এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন কেন্দ্রের কাছে প্রাপ্য ৯০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছেনা কেন্দ্র, জিএসটির ভাগ নিচ্ছে অথচ সঠিকভাবে জিএসটির টাকা পরিশোধ করছে না কেন্দ্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আগামী দিনে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে, বাড়বে গ্যাসের দাম।
পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, যে সকল প্রকল্প চালু রয়েছে তার কোন প্রকল্পই বন্ধ হবে না বলে। রাজ্যে ১.২০ কোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিন তিনি তীব্র ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাও করেন।

About Post Author