Home » আজও জারি নন্দীগ্রামের লড়াই, তবে এ লড়াই ভূমি আন্দোলনের নয়,কার হাতে থাকবে নন্দীগ্রামের দখল তা নিয়েই

আজও জারি নন্দীগ্রামের লড়াই, তবে এ লড়াই ভূমি আন্দোলনের নয়,কার হাতে থাকবে নন্দীগ্রামের দখল তা নিয়েই

সময় কলকাতা ডেস্কঃ  নন্দীগ্রাম দিবসকে ঘিরে চাপান উতোর শাসক দল তৃণমূল বিজেপির মধ্যে। সোমবার ১৪ ই মার্চ ২০০৭ সালের এই দিনেই নন্দীগ্রামে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। প্রাণ গিয়েছিল বহু মানুষের। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালিয়ে ছিল সিবিআই। যদিও সিবিআই তদন্তের ক্লিনচিট পেয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। নন্দীগ্রামের এই ভূমি আন্দোলনকে নিয়ে  রাজ্যব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে ছিলেন তৎকালীন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার পরিণতিতে রাজ্যে হয়েছিল ক্ষমতার পালাবদল। ২০০৭ সালের এই ঘটনার পরেই ২০০৮ সাল থেকেই এই দিনটিকে নন্দীগ্রাম দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি। একদা এই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ  হিসেবে তৎকালীন রাজনীতিতে প্রথম সারিতে উঠে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপরে রাজনীতির মোহনায় উঠেছে অনেক জোয়ার ভাঁটা ,বয়ে গেছে অনেক জল। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ কর্মী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। এই নন্দীগ্রামের মাটিতেই ২০২১ সালের বিধান সভা নির্বাচনীতে সম্মুখ সমরে নেমেছিলেন  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে আজ নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাই নন্দীগ্রাম তৃণমূল কর্মী থেকে শুরু করে নেতাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জমি। ফলে নন্দীগ্রামে দখল নিতে বরাবরই মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। তাই নন্দীগ্রাম দিবসে জোড়া কর্মসূচি নিয়েছে শাসক দল। গোকুলনগর এর মাল পল্লীতে  শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে হরি নাম সংকীর্তন এর আয়োজন করেছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। পরে সোনাচূড়ার ভাঙ্গা বেড়াতেও শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে দোলা সেন ,কুণাল ঘোষ, শেখ সুফিয়ান,পাঁশকুড়া পশ্চিম তৃণমূলের বিধায়ক ফিরোজা বিবি নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি ও ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির অন্যতম নেতৃত্ব স্বদেশ রঞ্জন দাস সহ প্রমুখ।অন্যদিকে নিজেদের জেতা জমিতে কাউকে ভাগ দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী অনেকটা যেন এমনই মনোভাব নন্দীগ্রাম বিজেপি নেতৃত্বের। নন্দীগ্রামের গণহত্যার বর্ষপূর্তিতে বিজেপি ও নিয়েছে জোড়া কর্মসূচি। নন্দীগ্রামের অধিকারী পল্লীতে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন বিজেপি নেতৃত্ব পাশাপাশি সোনাচূড়া শহীদ বেদীতে মাল্যদান সহ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিজেপি কর্মীরা। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রায় ১৪ বছর বাদেও নন্দীগ্রামের মাটি আজও রাজনৈতিক দলের কাছে অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ, যে কারণে আজও দখলদারির লড়াই চলছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে।

 

About Post Author