সময় কলকাতা ডেস্ক : আবারও এক অমানবিক চিত্র উঠে এল, এই সঙ্গে পাওয়া গেল মানবিকতার স্পর্শও। পুত্রশোকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলাকর ঠাঁই হতে চলেছে সরকারি হোমে। ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি ওই মহিলা। মহিলার নাম মিনতি সূত্রধর। ছেলে চলে যাওয়ার পরই মানসিক ভারসাম্য হারান বছর একান্নর মিনতি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও ছেলের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। রাস্তায় লোকের সাহায্যে আবার ফিরে এসেছেন বাড়ি।

আবার সেই একই ঘটনা। বাড়ি থেকে সকলের অজান্তেই বেরিয়ে পড়েন মিনতি । সুদূর কোচবিহারের দিনহাটা থেকে বাসে চেপে বসেন। বাসের কন্ডাক্টর তাকে নামিয়ে দেন হাওড়ার সাঁতরাগাছি স্টেশনের কাছে। সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকতে দেখে কৌতুহল হয় ওই সাঁতরাগাছি ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত পুলিশ আধিকারিকদের। তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে পুরো ঘটনা। তার ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় কোভিডের প্রথম ভ্যাক্সিনের প্রমাণপত্র। আর সেই সূত্র ধরেই তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। কিন্তু তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশের ধারণা হয় তাকে ফিরিয়ে দিতে অনীহা রয়েছে তার পরিবারের।
শুক্রবার রাতে থানাতেই থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে থানার আধিকারিকেরা। এরপরই তাকে স্থানীয় হোমে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় থানার পক্ষ থেকে। আজ তাকে হাওড়া কোর্টে নিয়ে আসা হয়। তাকে হোমে রাখার অনুমতি চাওয়া হয় আদালতের কাছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতের অনুমতি পত্র পাওয়ার পরই তাকে স্থানীয় হোমে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করবে জগাছা থানার পুলিশ। এ যেন এক অমানবিক পরিবার ও মানবিক পুলিশের জলন্ত উদাহরণ।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী