Home » বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে আত্মসমর্পণ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষের !

বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে আত্মসমর্পণ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষের !

সময় কলকাতা ডেস্কঃ মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে ২০১৭ সালের বন্যাত্রাণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় আত্মসমর্পণ হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত বরুই ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির নারী-শিশু ত্রান কর্মাধ্যক্ষ রোশনারা খাতুনের।দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে সোমবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।বন্যাত্রাণের টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় অভিযুক্ত বরুই পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আত্মসমর্পণ করার পরেই এলাকায় দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।এদিন পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ  জানান,”রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যেই তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।এই বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে দলের বড় বড় মাথা জড়িয়ে আছে।পুলিশ তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে।”ইতিমধ্যেই প্রশাসন পুনরায় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশে হরিশ্চন্দ্রপুর বন্যাত্রান কেলেঙ্কারির তদন্ত করবে ক্যাগ। পাশাপাশি অডিট করারও নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত,হরিশচন্দ্রপুরের বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের বন্যার ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে এর আগে অভিযুক্ত তালিকায় ছিলেন হরিশচন্দ্রপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কোয়েল দাস, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা তথা বিরোধী দল-নেত্রী সুজাতা সাহা, হরিশ্চন্দ্রপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রোশনারা খাতুন, বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোনামনি সাহা এবং বরুই পঞ্চায়েত এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা প্রাথমিক শিক্ষক আফসার হোসেন।যদিও হরিশ্চন্দ্রপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কোয়েল দাস এবং সুজাতা সাহা হাইকোর্ট থেকে বেল পেয়ে যান।বন্যার ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে মাস্টাররোলে সুজাতা সাহার সই জাল করা হয় বলেই তার অভিযোগ।কিন্তু বাকি তিন অভিযুক্ত এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পলাতক ছিল।তাদের কোনো হদিস খুঁজে পাচ্ছিল না প্রশাসন।বরুই পঞ্চায়েত এলাকার বিরোধীরাও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।যদিও গত শুক্রবার হরিশ্চন্দ্রপুরের বন্যাত্রাণ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা আফসার হোসেন  থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে।আর তারই মধ্যে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আত্মসমর্পণের ঘটনা নতুন করে বিতর্কের দানা বেঁধেছে এলাকায়। বিরোধীদের দাবি, অবিলম্বে এই সমস্ত রাঘব বোয়ালদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

উল্লেখ্য, পাঁচ বছর আগে, মালদহের ভয়াবহ বন্যায় হরিশ্চন্দ্রপুরের বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৭ হাজার ৩৯৪ জন।ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৭০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩,৩০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছিলে রাজ্য সরকার।অভিযোগ, সেখানে বরাদ্দ ক্ষতি-পূরণের টাকা থেকে প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে অভিযুক্তরা।এই দাবিতে কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন উচ্চ আদালতে।বৃহস্পতিবার ওই মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে আগামী তিন মাসের মধ্যে ওই ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেবে ক্যাগ।অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতাকে শুক্রবার চাঁচল মহকুমা আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেবে পুলিশ।

About Post Author