Home » মালদা বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে আত্মসমর্পণ প্রধানের, সিবিআই তদন্তের দাবিতে অস্বস্তিতে দল

মালদা বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে আত্মসমর্পণ প্রধানের, সিবিআই তদন্তের দাবিতে অস্বস্তিতে দল

সময় কলকাতা ডেস্কঃ মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের ২০১৭ সালের বন্যাত্রাণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তৃণমূল নেতা এবং বরুই পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষের পর এবার আত্মসমর্পণ হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত বরুই ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান সোনামনি সাহার।সুপ্রিমকোর্ট আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান। সে কারণেই আদালতের নির্দেশে হুলিয়া জারি  করে সম্পত্তি ক্রোক করেছিল হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।অবশেষে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে চাঁচল মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।এদিন পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান সংবাদ মাধ্যমকে জানান,কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান পুরোপুরি মিথ্যা অভিযোগ করেছেন তাঁর নামে।এই বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে দলের বড় বড় মাথা জড়িয়ে আছে।প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সি বি আই তদন্তের আর্জি   জানান তিনি।বন্যাত্রাণের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত বরুই গ্রামপঞ্চায়েত সমিতির প্রধান সোনামনি সাহা আত্মসমর্পণ করার পরেই এলাকায় দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। উল্লেখ্য ২০১৭ সালের বন্যা  ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত মোট তিনজনকে সুপ্রিম কোর্ট দুই সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়।মঙ্গলবার অর্থাৎ আজই ছিল তার শেষ দিন।ইতিমধ্যেই বাকি দুই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা আফসার হোসেন এবং বরুই পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রোশনারা খাতুন হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।তাদেরকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার পর শুক্রবার চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হবে।যদিও হরিশ্চন্দ্রপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কোয়েল দাস এবং সুজাতা সাহা হাইকোর্ট থেকে ইতিমধ্যেই জামিন পেয়ে যান।বন্যার ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে মাস্টাররোলে সুজাতা সাহার সই জাল করা হয়েছিল বলেই অভিযোগ ছিল।

দুই সপ্তাহের মধ্যেই পরপর তিনজন আদালতে আত্মসমর্পণ করার ঘটনায় নয়া মোড় নিল বলেই মনে করছে  স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।মালদহ জেলার বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুপেশ আগারয়াল এ বিষয়ে বলেন,‘তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে খেলা শুরু করেছে।আসল খেলা এবার জনসাধারণ এবং বিরোধীরা খেলবে তৃণমূলের সঙ্গে।’উল্লেখ্য পাঁচ বছর আগে, মালদহের ভয়াবহ বন্যায় হরিশ্চন্দ্রপুরের বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন ৭ হাজার ৩৯৪ জন।ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৭০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩,৩০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার।অভিযোগ,এই টাকা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা না পেয়ে বেশ কিছু তৃণমূল নেতা এবং জন-প্রতিনিধিদের পকেটে চলে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ  টাকা থেকে প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিল অভিযুক্তরা। এই দাবিতে কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন উচ্চ আদালতে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই মামলার পুরো ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেবে ক্যাগ, আগামী জুনের ২০ তারিখের মধ্যে ।

 

About Post Author