Home » রাজ্যজুড়ে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র

রাজ্যজুড়ে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র

সময় কলকাতা ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরই অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে গোটা রাজ্যের প্রশাসন। একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র বোমা-গুলি। কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে পুলিশ। তাই প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হচ্ছে বোমা, আগ্নেয়াস্ত্র। এদিন, নদীয়ার কৃষ্ণনগর গোদাডাঙ্গা এলাকার পরিত্যক্ত জায়গা থেকে বোমা উদ্ধার ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়ায় । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বোমাগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। কে বা কারা এই বোমাগুলি রেখে গেছে তার তদন্তে নেমেছে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ ।

একইভাবে বারুইপুর পুলিশ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র সহ বোমা উদ্ধার হচ্ছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে ভাঙড়ের কাশীপুর থানা এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার সেই বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করে সি আই ডির বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চালতাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কাবিলডাঙা গ্রামের মাঠে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে জঙ্গলের মধ্যে থেকে দুটি ব্যাগে মোট ২৫টি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বোমাগুলি কে বা কারা ওই এলাকায় রেখেছিল তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, ওইদিন রাতেই পুলিশের টহলদারি ভ্যান একটি দোকানের সাটার ভাঙার চেষ্টায় রত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কাশীপুর থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে খন্নেরপোল বাজারে। দেবেন্দ্রনাথ মন্ডল নামে এক ব্যক্তির সার ও মুদির দোকানের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল ওই দুই দুষ্কৃতি।

ধৃতরা আলিনুলের বাড়ি শাসন থানা এলাকায় এবং আজগার কাশীপুরের শানপুকুর গ্রামের বাসিন্দা। ধৃতদের কাছ থেকে একটি রিভলভার, কয়েক রাউন্ড গুলি, সাটার ভাঙার জন্য শাবল এবং বেশ কিছু ডুপ্লিকেট চাবি উদ্ধার হয়েছে।

বগটুই কান্ডে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে পুলিশের তৎপরতায় বীরভূমে শুরু হয় বোমা উদ্ধারের কাজ। সব মিলিয়ে চারশোরও বেশি বোমা উদ্ধার হয়েছে বীরভূমে। আর এই বোমা উদ্ধার ঘিরে শাসকদলের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। ‘বীরভূমে যা বোমা মজুত রয়েছে তাতে একটা দেশ উড়ে যেতে পারে। এর জন্য দায়ী তৃণমূল, মুখ্যমন্ত্রী নিজেও জানেন যে বোমা বারুদ মজুত এর জন্য তার কর্মীদের মৃত্যু হচ্ছে। উনি সবটাই জানেন কেনো এই বোমা মজুত আর কী কাজে ব্যবহার হয়, এখন মানুষের চোখ ধোলায়ের জন্য এই উদ্ধার কাজ, এমন কটাক্ষ বাম বিজেপি কংগ্রেসের।

পাশাপাশি, গলসি ১ নং ব্লকের দুই জায়গায় বোমা উদ্ধার করে গলসি থানার পুলিশ। গলসি ব্লকের পারাজ পঞ্চায়েতের করকডাল গ্রামের একটি খামারের মধ্যে জার থেকে উদ্ধার হয় তাজা বোমা। তাছাড়া শিড়রাই পঞ্চায়েতের শিড়রাই গ্রামের পশ্চিম পাড়ার একটি খামারেও উদ্ধার হয় জার ভর্তি বোমা। ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ । খবর দেওয়া হয় সিআইডি বোম ডিস্পোজাল টিমের কাছে। সিআইডি বোম ডিস্পোজাল টিমের প্রতিনিধিরা এসে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি পৃথক পৃথক ভাবে নিস্ক্রিয় করে। গলসি এলাকায় এমন ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

এইভাবে রাজ্যজুড়ে বোমা এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরছে সেইসব এলাকার মানুষদের মধ্যে। বীরভূমের ঘটনার পরই রাজ্যের মুুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে হিংসা রুখতে পুলিশকে বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ দেন। সেই থেকেই রাজ্য জুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

About Post Author