সময় কলকাতা ডেস্ক: আর্থিক বছর শেষের ঠিক আগের দিন আগুন লাগল জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্যভবনে।আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ ও দমকলের আধিকারিকরা। বেশ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তাঁরা আগুন আয়ত্বে আনেন। তবে তার আগেই আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায় স্বাস্থ্য দপ্তরের বেশকিছু নথিপত্র। এই ঘটনাকে কেন্দ্রকরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।বিজেপির অভিযোগ, করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় নথি নষ্ট করতে জলপাইগুড়ি স্বাস্থ্য ভবনে আগুন লাগানো হয়েছে।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বাপী গোস্বামী নাম না করে উত্তরবঙ্গের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায়কে নিশানা করে বলেন, ‘একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে করোনার ডাক্তার করা হয়েছে। তার নির্দেশে হাসপাতালের কিছু ডাক্তার ও কর্মীরা গত দুবছর ধরে হাসপাতালের জন্য পাঠানো কেন্দ্র সরকারের টাকা লুঠ করেছে। হাসপাতালের ওষুধ থেকে যাবতীয় জিনিসপত্র বাজারে বিক্রি করেছে। এমনকি হাসপাতালের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র যেগুলি দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে তার ভুয়ো বিল বানিয়ে সেই টাকা লুঠ করেছে। এখন দেখছে রাজ্যে সিবিআই এসেছে। ধরা পড়ার ভয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এদিন অগ্নিকান্ডের পর স্বাস্থ্যভবন পরিদর্শনে আসেন ফায়ার ব্রিগেডের ডিভশনাল অফিসার প্রদীপ সরকার। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘যেখানে আগুন লাগে সেখানে কিছু ডকুমেন্ট ছিল। তবে কিসের ডকুমেন্ট তা জানা নেই।’ মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন সিলিন্ডারগুলিতে অত্যাধুনিক সিস্টেম চালু হয়েছে। সেগুলিতে কবে রিফিল করা হয়েছে তা লেখা থাকলেও আর মেয়ার লেখা থাকেনা। বদলে সেই সিলিন্ডারে সবুজ ও লাল এই দুই দিক নির্দেশ করা থাকে। যদি কাঁটা সবুজের দিকে থাকে তবে বুঝতে হবে সিলিন্ডারে থাকা কেমিক্যাল মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়নি। তাই সিলিন্ডারগুলি পরীক্ষা করে দেখা হবে।’

ঘটনায় যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৈকত চ্যাটার্জী বিজেপির জেলা সভাপতিকে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘উনি স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী একথা আমার জানা ছিল না। আগুন লেগেছে। দমকল আগুন নিভিয়েছে। তদন্তের পর জানা যাবে কিভাবে আগুন লেগেছে।’

তার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডাক্তার সুশান্ত রায়। তিনি টেলিফোনে জানান, ‘আগুন লেগেছে বাথরুমে। সেখানে কোনও নথি ছিল কিনা তা তার জানা নেই। আর নথি তার কাছে থাকেনা। নথি থাকে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কাছে। এছাড়া কম্পিউটারে নথি থাকে। কম্পিউটার দেখলেই সেগুলি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’পাশাপাশি অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার অসীম হালদারের বক্তব্য, ‘আগুন বাথরুমে লেগেছিল। কোনও নথি সেখানে ছিলনা। স্বাস্থ্য দপ্তরের যাবতীয় নথি ঠিক আছে।’


More Stories
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!