সময় কলকাতা ডেস্ক: তিন ভাগ ধানের দাবি গোটা দেশের কাছে পৌঁছে দিতে তৎকালীন জমিদার ও তাদের সঙ্গী ব্রিটিশ পুলিশ নিরস্ত্র চাষিদের উপর গুলি চালিয়েছিল। এই ঘটনায় শহিদ হওয়া ২২ জনের মধ্যে অন্যতন ছিলেন যশোদারানী সরকার। ওই ঘটনার পর শহীদ পরিবারগুলির পাশে থেকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিল সরকার। কিন্তু তারপর আত্রেয়ী নদী দিয়ে গড়িয়েছে অনেক জল। পরিবর্তন হয়েছে একাধিক সরকারের। কিন্তু বারবার সাহায্যের আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই জোটেনি। তাই আন্দোলনের অন্যতম শহিদ যশোদারানীর পুত্রবধূ নিভা তার মানসিক প্রতিবন্ধী পুত্রকে নিয়ে অধ্যাহার অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

নিভাদেবীর আক্ষেপ, শুধুমাত্র শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত শহিদ বেদিতে মাল্যদান আর বক্তৃতা দিয়েই দায় সেরে সবাই ফিরে যায়।আমরা কিভাবে রয়েছি তার খোঁজ নেয়না কেউ। তাই কার্যত আধপেটা খেয়ে অসহায় ভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে যশোদারানীর হতভাগ্য পরিবারকে। নিভাদেবী বলেন, সম্বল বলতে সরকারের দেওয়া বৃদ্ধ ভাতার হাজার টাকা ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলের ভাতার টাকাই এখন তাঁদের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। ভাঙাবাড়িতে বর্ষায় জল পড়ে। তাই শেষ সম্বল বাড়ির পাশে কয়েকটি গাছ ছিল তাও বিক্রি করে গতবার বাড়ি ঠিক করেছেন। রাজনৈতিক নেতারা যেন দেখেও দেখেনা। তেমনি যাদের দেখার কথা ছিল সেই রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকার ও চোখ বন্ধ করে থাকায় আজ চরম দারিদ্রতার মধ্যে দিন কাটছে দিনাজপুরের তেভাগা আন্দোলনের জননী যশোদারানী সরকারের পরিবারের সদস্যরা।

সালটা ১৯৪৭-য়ের ২০ ফেব্রুয়ারি। আধা নয়, তেভাগা চাই। জান দেব, তবু ধান দেব না—কৃষকদের এমন স্লোগানে বালুরঘাটের খাঁপুর গ্রামের মাটি সেদিন কেঁপে উঠেছিল। জমিদার এবং ব্রিটিশ পুলিশের সামনে মাদলের তালে বুক চিতিয়ে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন যশোদারানি সরকার, কৌশল্যা কামারনি, চিয়ারসাই শেখ, গুরুচরণ বর্মন, মাঝি সরেন, হোপনা মার্ডির মতো বীর কৃষকেরা। তাদের পিছনে ছিলেন শতাধিক চাষিরা। ডুগডুগি বাজিয়ে দীর্ঘ বঞ্চনার প্রতিবাদ ও ধানের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে এগিয়ে যেতেই ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনী সামনে থেকে গুলি চালাতে থাকে। গুলিতে যশোদারানি, কৌশল্যাদেবী, চিয়ার শেখ, গুরুচরণ বর্মন, মাঝি সরেন, হোপনা মার্ডির মতো ২২ জন নিহত কৃষকের রক্তে লাল হয়ে ওঠে খাঁপুরের মাটি। ৫০ জনের উপর কৃষক পুলিশের গুলিতে জখম হন।শহিদ পরিবারের থাকা খাওয়ার সুবন্দোবস্ত, পানীয় জল, সেচের ব্যবস্থা থেকে খাঁপুরকে আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলার বহু প্রতিশ্রুতি বাম-ডান রাজনীতির পাঁকের গভীরে হারিয়ে গিয়েছে। বীর শহিদের খাঁপুর রয়ে গিয়েছে সেই খাঁপুরেই।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?