Home » স্থানীয় প্রশাসনকে এড়িয়ে খাপ পঞ্চায়েতের তালিবানি ফরমান জারি, বিতর্কে স্থানীয় নেতৃত্ব

স্থানীয় প্রশাসনকে এড়িয়ে খাপ পঞ্চায়েতের তালিবানি ফরমান জারি, বিতর্কে স্থানীয় নেতৃত্ব

সময় কলকাতা ডেস্কঃ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কেটে গিয়েছে ৭৪টি বছর। বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে দাঁড়িয়েও আইন আদালত, বিচার ব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন থাকলেও গ্রামে কারও কোনও সমস্যা হলে যাওয়া যাবে না থানায়। জানাতে হবে গ্রাম কমিটিতে। বাড়িতে কোন মাঙ্গলিক কিংবা পারলৌকিক অনুষ্ঠানের আগে গ্রাম কমিটিকে নিয়ে বসে আলোচনা করতে হবে। বিয়ে করে বউ নিয়ে এলে বা গ্রামেরই কোনও মেয়ে বাড়ি ছেড়ে বিয়ে করলে আরও সমস্যা। গ্রাম কমিটিকে দিতে হবে বিশাল অঙ্কের চাঁদা। এরকম ১২ দফা ফতোয়া জারি করার অভিযোগ উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের একটি গ্রাম কমিটির বিরুদ্ধে। ঘটনা পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল ব্লকের চকদ্বারিবেড়্যার গ্রামের ঘটনা। যেখানে প্রশাসনকে উপেক্ষা করে সমান্তরালভাবে খাপ পঞ্চায়েতের মতো ব্যবস্থা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরে মহিষাদলের লক্ষ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চকদ্বারিবেড়্যার গ্রামে বন্ধ খামের ভেতর একটি লিফলেট করা হচ্ছে। গ্রাম কমিটির তরফে ওই লিফলেট বিলি করা হচ্ছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের একাংশের।

বাড়ির দেওয়ালে এই নোটিস দেখেই হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই লিফলেটে দাবি করা হয়েছে, গ্রাম্য সাধারণ সভায় বাড়ি পিছু প্রতিনিধিত্ব বাধ্যতামূলক। অন্যথায় কুড়ি টাকা জরিমানা দিতে হবে। পারিবারিক বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনো বিবাদ হলে তাও গ্রাম কমিটির নজরে আনতে হবে। এরকম একাধিক ফতোয়া জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, এই ফতোয়া লিফলেট ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি নেতা স্বপন দাস বলেন, “গ্রাম কমিটির সম্পাদক এবং সভাপতি বাড়ি বাড়ি এই লিফলেট পৌঁছে দিচ্ছেন বলে এলাকার মানুষজন বলে গিয়েছেন। প্রশাসনকে বাদ রেখে গ্রাম চালানো র চেষ্টা করছে শাসক দলের লোকজন”। নির্বাচিত পঞ্চায়েত ব্যবস্থার পাশাপাশি ওই গ্রামে সম্প্রতি একটি কমিটি তৈরি করেছিলেন স্থানীয়রা সকলে মিলে। মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে গ্রাম কমিটির একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই নতুন ফতোয়া জারি করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় লিফলেটে দাবি করা হয়েছে। যে কমিটির সম্পাদক হচ্ছেন তৃণমূলের রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের নেতা প্রণব দাস।

বিজেপির প্রাক্তন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সভাপতি তথা রাজ্য কমিটির সদস্য প্রদীপ কুমার দাস বলেন, “যোগী জি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে উত্তরপ্রদেশের যেভাবে ফতোয়া জারি করা হতো সেভাবে আমাদের নানা আন্দোলনের পীঠস্থান পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে চালু করতে চাইছে শাসক দল। ন্যাক্কার জনক এই ঘটনার সর্বস্তরে ধিক্কার জানাই। এ বিষয়ে আমরা পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগ জানিয়েছি”।

এই প্রসঙ্গে মহিষাদলের বিধায়ককের বক্তব্য, এমন কোনও ফতোয়া পুরোপুরি বেআইনি। যে অভিযুক্ত তার সঙ্গে কথা বলেছি। জানিয়েছি যে পাল্টা হ্যান্ড বিল নিয়ে যেন প্রচার করা হয় গ্রামবাসীদের মধ্যে।
বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে কীভাবে প্রশাসনকে এড়িয়ে গ্রামে এইরকম ফতোয়া জারি হতে পারে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।কি ভাবে খাপ পঞ্চায়েতের খেয়াল খুশি মত তালিবান ফরমান জারি হতে পারে সেই নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপের পালা।

About Post Author