Home » কালের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ শিল্প, দখল নিচ্ছে প্লাস্টিকের পণ্য

কালের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ শিল্প, দখল নিচ্ছে প্লাস্টিকের পণ্য

সময় কলকাতা ডেস্ক : বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের এখন আর কদর নেই বললেই চলে।কালের স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প ।একসময় দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি হত হাজারো পণ্য। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে বাঁশ দিয়ে তৈরি মনকাড়া বিভিন্ন জিনিসের জায়গা দখল করেছে স্বল্প দামের প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য । তাই  বাঁশের তৈরি সেই পণ্য গুলি এখন বিলুপ্তির পথে। তবে শত অভাব অনটনের মধ্যেও হাতে গোনা গুটিকয়েক পরিবার আজও এই পেশাকে ধরে রেখেছেন।

এক সময় বর্ধমান জেলার মগরার গ্ৰামেগঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঁশের ঝাড় দেখা গেলেও বর্তমানে তা বিলুপ্তির পথে। ফলে বর্তমানে আধুনিকতার মিশেলে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম-বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য বাঁশ দিয়ে তৈরি কুলো, ঝুড়ি, চাটাই, ডালা, চাঙারি, টুকরি, চালুনির মতন বাঁশের তৈরি বিভিন্ন উপকরণ । প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও উপকরণের আকাশছোঁয়া দাম, সেই তুলনায় বাঁশের তৈরি বিভিন্ন আসবাবের চাহিদা প্রায় নেই বললেই চলে। যার ফলে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। জানালেন পূর্ব বর্ধমানের মগরার বিভিন্ন শিল্পীরা।

বদ্যিনাথ মৌলীর দাবি একটা বাঁশ কিনে আনতে লেগে যায় ১৫০টাকা। সেই তুলনায় বাঁশের তৈরি উপকরণবিক্রি করে নাম মাত্র লাভ হয়।একটা সময় পূর্বপুরুষরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ।বর্তমানে এত প্রতিকূলতা থাকা সত্বেও এই কাজ ধরে রেখেছেন বলে জানান ওই শিল্পী।

দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এই কাজে হাত লাগিয়েছেন। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত গুঞ্জরি মৌলী জানান বাঁশের তৈরি জিনিসের চাহিদা এখন আর নেই। সেই জায়গায় প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস বাজার দখল করছে। মূলত গ্রামের মানুষেরাই বাঁশের তৈরি জিনিস কিনছেন বলে জানান তিনি।

গোপ গন্তার ১ নম্বর অঞ্চলের উপ প্রধান চৌধুরী মহম্মদ আরসাদ বলেন প্লাস্টিকের জিনিসেই মূলত বাজার ছেয়েছে । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোয় কিছুটা আশার আলোর মুখ দেখছেন এই কাজের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা
তবে হারিয়ে যাওয়া এই শিল্পকে আগের মতন মূল স্তরে ফিরিয়ে আনা আদৌ সম্ভব কি না তা সময়ই বলতে পারবে।

About Post Author