সময় কলকাতা ডেস্কঃ বিভিন্ন রাজ্যের ঝুকিপূর্ণ কাজ এখন বাঙালীকে করতে হচ্ছে ।সেই রাজ্যের মানুষ ঝুঁকিপূর্ন কাজ করে না।বাঙালীর হাতে পয়সা নেই বলেই এইভাবে শ্রমিক মৃত্যুতে বাঙালীই মরছে, এর জন্য রাজ্যের তৃণমূল সরকারই দায়ী ।আজ এই কথা বলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি দিলীপ ঘোষ।তাঁর মতে শুধু মাত্র ম্যাঙ্গালোরই এই প্রথম বাঙালী শ্রমিকের মৃত্যু হল না, এর আগেও কাশ্মীর, পাঞ্জাব,কেরলে বাঙালী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।তাঁর আরো অভিযোগ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার আসার পর থেকে যুবক-যুবতীরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন, অন্য রাজ্যে কর্মের সন্ধানে যেতে বাধ্য হয়েছে।আর সেখানেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে তাঁরা।কারন বাংলায় কোন কাজ নেই । আর দুর্ঘটনায় ভিন রাজ্যে বাঙালী শ্রমিকের মৃত্যুর দায় বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ চাপান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সরকারের উপর।মঙ্গলবার নিউটাউনে প্রাতঃ ভ্রমনে এসে এই ভাবেই রাজ্য সরকার ও তৃণমূল সুপ্রিমোকে আক্রমণ করেন তিনি।
একই সঙ্গে রাজ্যে বিশ্ব বানিজ্য সম্মেলনকে রাজ্য সরকারের খেলা ও মেলার আয়োজনের মত অনুষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ জানান মাস কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় দিল্লি গিয়ে বিশ্ব বানিজ্য সম্মেলনে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন মাত্র।কিন্তু প্রধান মন্ত্রী রাজ্যে আসবে সরকারি ভাবে সেই কথা জানানো হয়নি দিল্লি থেকে, দাবি দিলীপ ঘোষের।ফলে শুধু মাত্র প্রচারের জন্যই প্রধানমন্ত্রীর নাম এই রাজ্যে শাসক দল ব্যবহার করে ছিল।তিনি বলেন বিগত বছর গুলিতে বিশ্ব বানিজ্য সম্মেলন থেকে সেই অর্থে কোন বিনিয়োগ আসেনি এ রাজ্যে।তবে সরকারি কোষাগার থেকে বেড়িয়ে গিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এবছরের বিশ্ব বানিজ্য সম্মেলনের সফলতা চেয়ে শুভেচ্ছা জানান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।তিনি বলেন আশা করব এবারের সম্মেলন একটু ব্যতিক্রমী হবে রেজাল্টও হবে। কোটি কোটি টাকা খরচের পর আশা করব কিছুনা কিছুনা শিল্প ও বিনিয়োগ আসবে বাংলায়।রাজ্যের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। মানুষের চাকরি হবে কটাক্ষের সুরে বলেন দিলীপ ঘোষ।
রাজ্য বিজেপিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ।তিনি বলেন নির্বাচনে আমাদের পার্টি ভালো রেজাল্ট করতে পারেনি। তার জন্য কর্মীদের মধ্যে হতাশা আছে। পার্টি লড়াই করেছিল এমএলএ এমপি জিতেছিল ।রেজাল্ট খারাপ হয়েছে বলে পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করেছে।এটা হতাশার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এইদিন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন আমাদের মধ্যে কেউ একটু স্টেটমেন্ট দিয়েছে, কমেন্ট করেছে, তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে যাচ্ছেন অনেকে।আর তৃণমূলের ওইখানে যে বন্দুক নিয়ে বোমা নিয়ে দৌরাত্ম হচ্ছে সাংসদ সৌগত রায়ের বাড়ির সামনে। বোম পরছে, ইট পরছে ,পুরনো নেতারা হতাশ হয়ে গেছেন। তৃণমূল পার্টিতে খুনোখুনি হচ্ছে ।বিজেপিতে এই ধরনের ঘটনা হয়নি। হবেও না ।দাবি বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের উত্থান-পতনে একটু মন খারাপ হয় ।তবে তৃণমূল পার্টিটা পুরোপুরি দুষ্কৃতকারীদের হাতে চলে গেছে মত দিলীপ ঘোষের।
নারকেলডাঙ্গা থানার কাসাই বস্তিতে প্রতিবাদীকে মারধোরের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন রাজ্য আর কোন প্রতিবাদী নেই ।মিডিয়ার চুপচাপ হয়ে গেছে ,হিম্মত দেখাচ্ছেনা অনেক খবর জানতে পারছি না ।বিজেপির কর্মীরা লড়াই করত। আমাদের লোকেদের মেরে খুন করে বা কেস দিয়ে বাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। নির্বাচনে লুটপাট চলছে ,এজেন্ট বসতে দেওয়া হচ্ছেনা ।বাপের সামনে মেয়েকে অসম্মান করা হচ্ছে ,তখন প্রতিবাদ করতে গেলে তার প্রাণ নিয়ে টানাটানি হয়ে যাচ্ছে। একাধিক জায়গায় এমন হয়েছে দাবি দিলীপ ঘোষের।তাঁর মতে রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে অনাচার শুরু হয়ে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। কেবল টিএমসি ঝান্ডা ধরলে বাঁচবে।আরো সুর জড়িয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন শেষ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যেও গোলাগুলি করে মরছে তৃণমূল কংগ্রেস। এটা বাংলার মানুষ চাইনি ।দিলীপ ঘোষের আক্ষেপ যারা ৫০০ টাকার জন্য ভোট দিয়েছেন তাদের কাছ থেকে এর থেকে বেশী কি পাবেন ।তৃণমূল নেত্রী বীরভূমের আনারুল হোসেন কে জেলে ভরেছেন শুধু মাত্র জনরোষ থেকে বাঁচাতে অভিযোগ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের।তাঁর দাবি তৃণমূলের নেতারা অপকর্ম করছে ।মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। জনরোষ থেকে বাঁচাবার জন্য সেই সব নেতাদের জেলে রাখা হয় ।সেখানে সব সুবিধা ও ফুর্তি করার ব্যবস্থা আছে বলে অভিযোগ দিলীপ ঘোষের।
নিয়ম মেনে সকাল সকাল নিউটাউনের ইকো পার্কে শরীর চর্চায় উপস্থিত হন দিলীপ ঘোষ।সেই খানেই বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তাঁর সতীর্থরা। ৬৪ তে পা দিলেন দিলীপ ঘোষ।


More Stories
২৮ বছর পরে কংগ্রেসে কি ফিরবেন মমতা?
কালীঘাটে মমতার বাড়ির দোরগোড়ায় সিআইডি
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির