সময় কলকাতা ডেস্কঃমেট্রো রেলের কাজের জন্য বউবাজারে একের পর এক বাড়ি ও দোকান গুলিতে যেভাবে ফাটল ধরেছে তারই স্থায়ী সমাধান করতে চাইছেন কলকাতা পুরসভা।পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবারই মেট্রো কতৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসে কলকাতা পুরসভা। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিনিধিরাও। বৈঠকের পর মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ একটি প্রাথমিক রিপোর্ট দেয় বলেই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। এদিনের এই বৈঠকে যে বিষয় গুলো তুলে ধরা হয় সেগুলি হল ,প্রথমত শুধুমাত্র মাটি খুঁড়ে মেট্রো চ্যানেল তৈরি করলেই হবে না দেখতে হবে যে মাটির মধ্যে দিয়ে টানেল করা হচ্ছে সেই মাটির ক্ষমতা কতটা। যেহেতু শহর কলকাতার সিংহভাগ সারফেস এরিয়া গঙ্গার পলি মাটি দ্বারা পূর্ণ এবং জল পেলেই এই মাটি যেভাবে জলের সাথে মিশে যায় তার থেকে কিভাবে নতুন কনস্ট্রাকশন কে বাঁচিয়ে রাখা যাবে,তার জন্য এক্সপার্ট কমিটির ওপিনিয়ন নেওয়ার প্রয়োজন।মাটি বিশেষজ্ঞ বা আর্থ এক্সপার্ট টিম এনে কলকাতার মাটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করার পর মেট্রো টানেল সম্প্রসারণ এর বিষয়ে আধুনিক রূপরেখা ঠিক করুক কে এম আর সি এল।এ বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ এবং মাটি বিশেষজ্ঞদের কলকাতা পৌরসভার পক্ষ থেকে পরামর্শ নেওয়া হবে বলেই কড়া হুঁশিয়ারি জারি করেন তিনি।
পাশাপাশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এদিন মেয়র বলেন,একটা তাপ্পি মেরে দিলাম আবার দু’বছর বা পাঁচ বছর বাদে কিছু হলো এটার জন্য মানুষ একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। আর মানুষের পক্ষে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সম্ভব নয়। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ এবং কে এমআরসিএল কে তাদের মত করে কাজ চালিয়ে যাবে আর মাঝেমধ্যেই সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ভেঙ্গে পড়বে। মানুষ বিপদের মধ্যে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে বেঁচে থাকবে এটা কখনোই আমরা করতে দিতে পারি না। তাই বিশেষজ্ঞ টিম নিয়ে এসে ভালো করে কলকাতার মাটির চরিত্র, ভূপৃষ্ঠের অবস্থান,এবং ভূগর্ভস্থ মাটির পরিমাণ কত এসব খতিয়ে দেখতে হবে। এরপর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে একদিকে মেট্রো রেল সম্প্রসারণ এর কাজ করতে হবে অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির পুনর্নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে হবে বলেই জানান তিনি। একইসঙ্গে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সাফ জানিয়ে দেন যে এক্সপার্ট ওপিনিয়ন না মেনে কাজ করতে গেলে আগামী দিনে কলকাতা পুরসভা এই কাজের জন্য নির্দিষ্ট ছাড়পত্র দেবেনা। যদিও রেলমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন কিনা,তা স্পষ্ট করেননি ফিরহাদ। তাঁর দাবি,আগে টেকনিক্যাল দিকটা দেখতে হবে।
প্রসঙ্গত,আড়াই বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় ।গত বুধবার বিকেলের পর দুর্গা পিতুরি লেনের ১০টিরও বেশি বাড়িতে নতুন করে দেখা দেয় ফাটল। ভিটে হারা হয় প্রায় ২৮টিরও বেশি পরিবার।পুলিশের নির্দেশে তড়িঘড়ি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন আবাসিকরা। রাতের বেলায় বাড়ি ছেড়ে তাদের ঠাঁই মেলে রাস্তায়।আবার নতুন করে ভিটে হারা হওয়ার আশঙ্কা গ্রাস করেছে বাসিন্দাদের। ফিরেছে ২০১৯সের সেই ভয়াবহ স্মৃতি।


More Stories
ডিমথেরাপিতে গ্রেফতার ২, কথা রাখলেন পথপ্রদর্শক কুণাল!
কালীঘাটে মমতার বাড়ির দোরগোড়ায় সিআইডি
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির