Home » মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি পরও বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য আজও  অব্যাহত

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি পরও বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য আজও  অব্যাহত

সময় কলকাতাঃ  বীরভূমের অজয় নদী। অজয় নদীর তীর বরাবর দেখা যাবে নদীর আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বড় বড় জেসিবি দিয়ে তোলা হচ্ছে নদী থেকে বালি। কাজ করছে হাজার হাজার মানুষ। বিভিন্ন ঘাটেই দাঁড়িয়ে রয়েছে বহু লরি যা বালি বোঝাই করে রওনা দিচ্ছে তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে। আর এইখানে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। নদীর চর থেকে বালি তোলা কতটা আইনি আর কতটা বেআইনি? বিভিন্ন ঘাটের মালিকানা রয়েছে এক এক জন বালি মাফিয়াদের হাতে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম নীতি মেনেই টেন্ডার ডেকেই তোলা হয় বালি। তবে অধিকাংশ বালি খাদানই বেআইনি। শুধু বীরভূম নয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা হয় । আর এখানেই বালি মাফিয়াদের রাজত্ব।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই বালি মাফিয়াদের। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যারা এই অবৈধ বালি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। তা সত্ত্বেও বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য আজও  অব্যাহত। বৈধ ভাবে নদী থেকে বালি তোলা হলেই প্রতি গাড়ি পিছু যারা বালি তুলে দিচ্ছেন তারা নেন ১০০০০ টাকা আর সরকারিখাতে জমা পড়ে ২০০০ টাকা। আর অবৈধভাবে বালি তোলা হলে, সম্পূর্ণ টাকাটাই চলে যায় বালি মাফিয়াদের হাতে সে ক্ষেত্রে সরকারের প্রাপ্তি শূন্য। এরপর অতিরিক্ত লাভ হয় বালি মাফিয়াদের যদি গাড়ি ওভারলোডিং করা হয়। সাধারণত একটি ১০ চাকা লরিতে বালি বোঝাই হয় 25 টন। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওভারলোডিং হলে ১০ চাকা লরিতে বালি বোঝাই হয় 45 টন। আর সে ক্ষেত্রে লাভ হয় রাস্তায় থাকা পুলিশকর্মীদের। কারন একটি ওভারলোডিং গাড়িকে ধরলেই ফাইন করা হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ফাইনের টাকা সরকারি কোষাগারে না জমা হয়ে চলে যায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের পকেটে। অবৈধ বালি ব্যবসাকে ঘিরে একটা অসাধু চক্র কাজ করে চলেছে দীর্ঘ যুগ ধরে যে চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বালি মাফিয়া প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং পুলিশকর্মীরাও। বোলপুরের অন্তর্গত গেরুয়া পাড়ায় অজয় নদীর বালি ঘাটের সম্প্রতি অভিযান চালায় বোলপুর থানার পুলিশ। পুলিশি অভিযানে আটক হয় একটি জেসিবি মেশিন। কিন্তু এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জেরে দিনের পর দিন চলছে এই বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য।

পুলিশ অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ পুলিশের সঙ্গে পালি মাফিয়াদের অশুভ আঁতাতের জেরেই পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা। বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য এতটাই কয়েক কিলোমিটার জুড়ে প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে অবৈধ খাদান থেকে তুলে আনা বালি ফেলে রেখেছে বালি মাফিয়ারা। না আছে তাদের প্রশাসনের ভয়, না আছে স্থানীয় মানুষের ভয়। এর কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বালি মাফিয়াদের মদত দেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। এক্ষেত্রে শাসক দলের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে বারবার উঠেছে অভিযোগের আঙুল আর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা।

বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে বার বার পড়েছে শাসক দলের নেতা-নেত্রীরা। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে শাসক দলের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদেরও সংযোগ রয়েছে এই বালি মাফিয়াদের সঙ্গে।
বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের কারণে বিভিন্ন সময় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, রাস্তায় ঘটছে দুর্ঘটনা, সাধারণ মানুষের জীবন যাপনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বালি মাফিয়ারা।

বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে একাধিকবার একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোচ্চার হয়েছে কখনো বা সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ মানুষ ।তা সত্ত্বেও বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য আজও অব্যাহত। প্রশাসনের নীরবতা আরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বালি মাফিয়াদের অশুভ আঁতাতের কারণেই ক্রমেই বেড়ে চলেছে বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য কবে এই দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে সে প্রশ্ন সবারই অজানা।

About Post Author