Home » জন্মদিনে ফিরে দেখা ‘সংলাপের জাদুকর’–কে!

জন্মদিনে ফিরে দেখা ‘সংলাপের জাদুকর’–কে!

সময় কলকাতা ডেস্কঃ কেউ তাঁকে বলেন ‘সংলাপের জাদুকর’, কারও কাছে আবার তিনি ক্যামেরার লেন্সে দুনিয়াদারিতে এক সাহসী ও নিপুণ পরিচালক। তিনি, মৃণাল সেন। আজ তাঁর জন্মদিন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর মাত্র ৯৫ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই বিশ্ব বরেণ্য পরিচালক। আজ কিংবদন্তি পরিচালকের ৯৯ তম জন্মদিন। সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকের পর মৃণাল সেনই এমন একজন পরিচালক যাঁর হাত ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক নতুন ধারার প্রবর্তন হয়েছিল।

রাতভোর’ ছবি দিয়ে সিনেমায় হাতেখড়ি হয় মৃণাল সেনের। যদিও সেই ছবিটি তেমন সাফল্যের মুখ দেখেনি। সত্যজিৎ রায়কে যেমন সারা দুনিয়া ‘পথের পাঁচালী’র জন্য চেনে, তেমনি ‘ভুবন সোম’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘পদাতিক’, ‘এক দিন আচানক’ সহ বেশ কিছু ছবির জন্য বাঙালিরা মৃণাল সেনকে মনে রাখবে। মৃণাল সেন এমন একজন পরিচালক, যিনি বিশ্বাস করতেন সিনেমা শুধুই বিনোদনের জন্য নয়, সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষিত করে তোলাও যায়। তাঁর কলকাতা ট্রিলোজি অর্থাৎ ইন্টারভিউ, ক্যালকাটা ৭১ এবং পদাতিক এই ছবি তিনটির মাধ্যমে তিনি তৎকালীন কলকাতার অস্তিত্বকে তুলে ধরেন। মধ্যবিত্ত সমাজের নীতিবোধকে মৃণাল সেন তুলে ধরেন তাঁর খুবই প্রশংসিত দু’টি ছবি একদিন প্রতিদিন এবং খারিজ সিনেমার মাধ্যমে। খারিজ ছবিটির জন্য ১৯৮৩ সালের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হন তিনি। ১৯৮০ সালের চলচ্চিত্র ‘আকালের সন্ধানে’। এই ছবিতে দেখানো হয়েছিল ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ।

মৃণাল সেনের সৃষ্টির ঝুলিতে রয়েছে ‘ভুবনসোম’, ‘কোরাস’, ‘মৃগয়া’, ‘আকালের সন্ধানে’, ‘পুনঃশ্চ’, ‘পরশুরাম’, ‘একদিন প্রতিদিনে’র মতো অসামান্য সব ছবি। তাঁর শেষ ছবি ‘আমার ভুবন’। যেটি ২০০২ সালে তিনি পরিচালনা করেছিলেন। সর্বমোট ২৭টি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি, ১৪টি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি ও ৪টি তথ্যচিত্রের পরিচালনা করেছিলেন মৃণাল সেন। কিংবদন্তী পরিচালকের ঝুলিতে রয়েছে ১৮টি জাতীয়, ১২টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার। পাশাপাশি মস্কো, বার্লিন, কান ফেস্টিভ্যালে অসামান্য সিনেমা বানানোর জন্য পুরস্কৃত হন তিনি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বহু সম্মানে ভূষিতও হয়েছেন মৃণাল সেন।

১৯৮১ সালে তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার। ২০০৫ সালে ভারত সরকার প্রদত্ত বিনোদন জগতের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। সাহিত্য ও শিল্পে অনস্বীকার্য অবদানের জন্য তাঁকে কম্যান্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস সম্মানে সম্মানিত করেছিল ফরাসি সরকার। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি, ওড়িয়া, তেলগু ভাষাতেও ছবি বানিয়েছিলেন পরিচালক মৃণাল সেন। প্রবাদপ্রতিম এই পরিচালক আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন। তবে কখনও পার্টিতে যোগদান করেননি। সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেননি। তবে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত রাজ্যসভার মনোনীত সদস্যও ছিলেন এই কিংবদন্তী পরিচালক।

About Post Author