সময় কলকাতা ডেস্ক :
প্রবাদ আছে, হাতি ভোলে না। অনেকেই জানেন না হাতিদের নিজস্ব ধারায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার রীতি আছে ।তারা তাদের হস্তীকুলে মৃতের জন্য শব যাত্রা করে। মৃতের জন্য হাতি পরিবারের শোকপ্রকাশের বিশেষ রীতি আছে।তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তি নিয়ে এবং স্মরণশক্তি নিয়ে চালু আছে প্রবাদ। তাদের হৃদয়বৃত্তি নিয়েও আদরিনী বা যাত্রামঙ্গলের মত বহু গল্প লেখা হয়েছে।হাতির হৃদয়বৃত্তি গল্পের চেয়ে সত্যি হয়ে উঠল এবার।

হাতিকে নিয়ে একটি মর্মস্পর্শী ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরবঙ্গ। মৃত্যুর তিনদিন পরে, সোমবার,রেডব্যাংক চা বাগানের জঙ্গল থেকে মৃত হস্তিশাবককে উদ্ধার করতে সক্ষম হল বনদফতরের কর্মীরা। শুক্রবার মৃত শাবককে শুঁড়ে করে জঙ্গলে আশ্রয় নেয় মা হাতি। এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গল ঘুরেও সন্তানের প্রাণের সাড়া না পেয়ে মৃত হাতিকে ছেড়ে চলে যায় মা হাতি ও তার দল। সোমবার দুপুরে ক্রেন লাগিয়ে মৃত হস্তিশাবককে বানারহাট আম বাড়ি চা বাগান এলাকা থেকে উদ্ধার করা হল। এই মর্মস্পর্শী ঘটনা হাতির সংবেদনশীলতার আরেকটি চিত্র। গণমাধ্যমের সৌজন্যে অনেকেই বিষয়টি দেখেছেন।কিন্তু হাতির মৃত্যুভাবনা সম্বন্ধে অনেক কথাই আমাদের অজানা।
হাতিদের যেমন নিজস্ব অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আছে তেমন তাদের সংঘের একজন সদস্যের মৃত্যুর ক্ষেত্রে, হাতিরা সাধারণত একটি অগভীর গর্ত খুঁড়ে পাতা,ডাল এবং মাটি, কাদা দিয়ে শরীর ঢেকে তাকে কবর দেয়। তারা আরও কয়েক দিন এই জায়গার পাশে চুপচাপ বসে থাকে। রেডব্যাংক চা বাগানের ঘটনায় মা হাতি তার সন্তানকে কবর দেওয়ার চেষ্টা করে নি। আশায় ছিল যদি প্রাণসঞ্চার হয়। সন্তানকে রেখে বিদায় লগ্নে তার চার সঙ্গীকে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।শাবকের প্রাণসঞ্চারের আশা ছেড়ে দেহ রেখে চলে যাওয়ার আগে হয়তো এক মিরাক্যালের স্বপ্ন দেখছিল মা হাতি। বাবরের মত প্রার্থনা করলেও হাতি মায়ের প্রার্থনা আশ্চর্য কিছু ঘটাতে পারে নি ।।


More Stories
বেজি কি সাপের বিষে কাবু হয় না?
এক সাথে পাঁচ সন্তানের জননী জ্বালা সম্পর্কে জেনে নিন, তার আবাস জানুন
গজরাজের প্রাণ বাঁচালেন লোকো পাইলটরা