সময় কলকাতা ডেস্কঃ ভবানীপুরে ব্যবসায়ী দম্পতি খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আরও ২। জানা গিয়েছে, সন্তোষ ওরফে রাহুল নামে এক দুষ্কৃতীকে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের মথুরা থেকে গ্রেফতার করা হয় বিশাল বর্মন নামে আরেক দুষ্কৃতীকে। পুলিশের দাবি, ভবানীপুরে ব্যবসায়ী অশোক শাহ ও তাঁর স্ত্রী রশ্মিতাকে খুনের পরেই লিলুয়ায় চলে যায় বিশাল। পরে উত্তরপ্রদেশে পালিয়ে যায়। বিশালের আগেই খুনের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের নাম রত্নাকর নাথ, যতীন মেহতা ও সুবোধ সিংহ। এই তিনজনকে জেরা করার পরেই বিশালের খোঁজ পায় পুলিশ। ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতা নিয়ে আসা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ধরে এগিয়েই পুলিশের হাতের নাগালে আসে দুজন।
প্রসঙ্গত, সোমবার (06.06.22) সন্ধেয়, দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের হরিশ মুখার্জি রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ব্যবসায়ী দম্পত্তির রক্তাক্ত দেহ। তারপরেই ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত রত্নাকর নাথ, যতীন মেহতা ও সুবোধ সিং কে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে ধৃতদের পরিচয় খোলসা করলেন কলকাতার নগরপাল তথা সিপি বিনীত গোয়েল। তিনি জানান, গোটা ঘটনায় মৃত দম্পতির পরিচিতদেরই হাত রয়েছে। যদিও ঘটনার মূল অভিযুক্ত দীপেশ এখনও অধরা।
উল্লেখ্য, তিন বছর আগে মৃত অশোক শাহের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন মূল অভিযুক্তের ভাই। এরপর তাঁর মৃত্যু হলে সেই টাকা মেটানোর দায়িত্ব নেয় মূল অভিযুক্ত। কিন্তু করোনার সময় নানান অজুহাত দেখিয়ে সেই টাকা আর ফেরত দেয়নি মূল অভিযুক্ত। তারপরই ধার নেওয়া টাকা মেটানোর জন্য অশোক শাহ বারবার চাপ দিলে সোমবার টাকা দেওয়ার নাম করে শাহ দম্পতির বাড়িতে যান অভিযুক্তরা। ১ লক্ষের বদলে কম টাকায় দেনা মিটিয়ে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে এদিন অশোক শাহের সঙ্গে বচসা শুরু হয় তাঁদের। তারপরই অশোক শাহকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপায় মূল অভিযুক্ত এবং পরে গুলি করে খুন করা হয় তাঁর স্ত্রী রশ্নিতা শাহকে। বুধবার খুন হওয়া গুজরাতি দম্পতির বাড়ি গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ৯৯ শতাংশ তদন্ত শেষ। পাশাপাশি খুন হওয়া দম্পতির দুই মেয়েকে মুখ্যমন্ত্রী জানান তাঁরা যেন পুলিশের তদন্তে আস্থা রাখেন।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা