সময় কলকাতা ডেস্কঃ আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ডের লিংক হয়নি। বারবার স্থানীয় সরকারি দপ্তরে ঘুরেও কোনও কাজ হচ্ছে না। এমনকী দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে বেশ কয়েকবার এই ব্যাপারে ফর্মফিলাপ করেও কোনো কাজ হয়নি। কার্যত এর জেরেই কয়েক হাজার মানুষ রেশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার বাসিন্দা। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক এলাকার সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষ ব্লক অফিসে আধার এবং রেশন কার্ডের সংযোগের জন্য জমায়েত হয়। কিন্তু এদিন সরকারি দপ্তরে কোনো আধিকারিকদের দেখা মেলেনি। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড লিংক করাতে এসে চরম হয়রানির শিকার হতে হয় এলাকার মানুষদের। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় রেশন ডিলার তাদেরকে মাল দিতে চাইছেন না। মাসের পর মাস তারা সরকারের রেশন সামগ্রী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি তারা আরও জানান যে,এ ব্যাপারে গত কয়েক বছরে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আবেদন করা হলেও কোন ফল মেলেনি। স্থানীয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও তদের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই জানান তারা।
যদিও এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে চাননি হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসু। এদিকে গোটা ঘটনায় তীব্র কটাক্ষ করেছেন জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রূপেশ আগারওয়াল জানান, রাজ্য-জুড়ে তৃণমূল নেতৃত্বের ভাওতাবাজি সরকার চলছে। সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের নামে মানুষকে ঠকানো হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পে হাজার হাজার দরখাস্ত গ্রহণ হলেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। সরকারি আমলা এবং শাসকদলের নেতাদের অপদার্থতার কারণে এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে, স্থানীয় ব্লক তৃণমূল ছাত্র সভাপতি বিমান ঝাঁ জানান, যে সমস্ত মানুষ রেশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অবিলম্বে তাদের আধার এবং রেশন কার্ডের লিঙ্ক যত দ্রুত সম্ভব করিয়ে দেওয়া হবে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক তরজা।


More Stories
ডিমথেরাপি অশোকনগরের গ্রেফতার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারকে
জেলে জায়গা হবে তো? কৃষ্ণ ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের মাফিয়া নন্দন গ্রেফতার
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?