সময় কলকাতা ডেস্কঃ সম্প্রতি ১৬ ই জুন সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হল দুবাইয়ের মোহাম্মদ বিন রশিদ লাইব্রেরী। তারপর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই বিন রশিদ লাইব্রেরী। কিন্তু কেন?
কি আছে এই লাইব্রেরীতে?
লাইব্রেরীতে ১ মিলিয়নের বেশি। লিখিত এবং ডিজিটাল বই রয়েছে।
শিশুদের প্রচুর খেলার সামগ্রী এবং খেলার জায়গা রয়েছে
প্রচুর জায়গা নিয়ে লাইব্রেরী তৈরি হয়েছে তার জন্য রয়েছে একাধিক কক্ষ। বহুতল এই লাইব্রেরীতে বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে।
সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন কক্ষে পড়া ,পড়াশোনা করা এবং কাজ করার জন্য প্রচুর আরামদায়ক জায়গা রয়েছে।
একটি ইন্ডোর এম্পিথিয়েটার রয়েছে।
একাধিক সম্মেলন কক্ষ রয়েছে যা প্রয়োজন ভিত্তিকভাবে বিভিন্ন সংগঠনকে ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
ইসলামিক গ্রন্থ সহ আরবের বিভিন্ন দেশ নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক বইয়ের একটা বিরাট সম্ভার রয়েছে এই লাইব্রেরীতে।
১৬৬২ সালে জোয়ানের উইলিয়াম ব্লেউ- এর রচিত “অ্যাটলাস মায়োর”প্রথম সংস্করণটি রাখা রয়েছে ।
তেরোশো শতাব্দীর বিভিন্ন কাজের তথ্য, বিভিন্ন বস্তু, পান্ডুলিপি সব সংরক্ষিত রয়েছে।

কেন লাইব্রেরী দেখতে যাবেন?
দুবাই শহরে একাধিক বিস্ময়কর স্থাপত্য রয়েছে। কিন্তু মোহাম্মদ বিন রশিদ লাইব্রেরী স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। লাইব্রেরীটি বাইরে থেকে দেখলেই মনে হবে একটি বুক স্ট্যান্ড। লাইব্রেরীটি সাততলা, যার প্রতিটি স্তরে রয়েছে এক একটি লাইব্রেরী মোট নয়টি বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থাগার সহ প্রায় ৫৪ হাজার বর্গমিটার এরও বেশি বিস্তৃত এই লাইব্রেরী। এই লাইব্রেরীটি নির্মাণ করতে প্রায় ছয় বছর সময় লেগেছিল। ১৬ই জুন লাইব্রেরীটি উদ্বোধন করেন দুবাইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ। ইতিমধ্যেই লাইব্রেরীটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নতুন সাংস্কৃতিক ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
গ্রন্থাগারটি কোথায় অবস্থিত ?
আল জাদ্দাফে, সমুদ্রের ধারে অসাধারণ মনোরম পরিবেশে গ্রন্থাগারটি অবস্থিত। সমুদ্র থেকে দেখলে মনে হবে যে সমুদ্রের পাড়ে একটি বুক স্ট্যান্ডে বই রাখা রয়েছে। চারিদিকে অপরূপ লন, সুন্দর বাগান দ্বারা পরিবেষ্টিত এই গ্রন্থাগারটি। বিশ্বের অধিকাংশ লাইব্রেরীর মতন এই লাইব্রেরীতে প্রবেশের জন্য কোন প্রবেশমূল্য এর প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কেউ প্রবেশ করতে পারে এবং লাইব্রেরীতে অবস্থান করার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই লাইব্রেরীতে প্রবেশের অনুমতি নেই। ৫ বছরের অধিকদের ক্ষেত্রে একটি ডেডিকেটেড লাইব্রেরী রয়েছে যেখানে ইনডোর স্লাইডে বিভিন্ন বিষয় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাদের সামনে দেখানো হয় ।

আপনি কি সদস্যপদ কিনতে পারবেন?
হ্যাঁ। এই লাইব্রেরীতে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে সদস্যপদ দেওয়া হয়। সদস্যপদের মাধ্যমে আরব আমিরশাহির বাসিন্দারা বই নিজগৃহে নিয়ে যেতে পারবে।
লাইব্রেরীটি সোমবার থেকে শনিবার সকাল 9 টা থেকে রাত 9 টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং রবিবার বন্ধ থাকে। বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য বিনামূল্যে পার্কিং সহ একটি নয়তলা ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকা রয়েছে।
যাওয়া যায় কিভাবে?
আল জাদ্দাফ মেট্রো স্টেশন থেকেই সরাসরি লাইব্রেরীতে যাওয়া যায় তার জন্য ছায়াযুক্ত হাঁটার পথ তৈরি করা হয়েছে। দুবাই বাস রুটের C04 এর মাধ্যমে যাওয়া যায়।
লাইব্রেরীতে আর কি কি রয়েছে?

সাত তলা বিশিষ্ট ওই লাইব্রেরীতে নয়টি বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থাগার রয়েছে। সর্বনিম্ন তল অর্থাৎ গ্রাউন্ড ফ্লোরে তিনটি লাইব্রেরী রয়েছে। একটি সাধারণ গ্রন্থাগার রয়েছে, একটি এমিরেটস লাইব্রেরী রয়েছে, একটি শিশুদের জন্য এবং একটি তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ,অন্যটি ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের জন্য, এবং একটি সমসাময়িক বিষয়ের উপর ফোকাস করে বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক শিল্পকলা, আরবের সংবাদপত্রসহ একাধিক বিষয় নিয়েও লাইব্রেরী রয়েছে। এখানে একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহের লাইব্রেরী রয়েছে যে লাইব্রেরীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পুস্তক, তাদের জীবন ভিত্তিক তথ্য সম্বলিত লেখনি রয়েছে। ইনডোর আউটডোর এম্ফিথিয়েটার, সাহিত্য জাদুঘর, একটি সম্মেলন কেন্দ্র, একটি দোতলা ক্যাফে এবং বিভিন্ন উপহার এর দোকান রয়েছে এই লাইব্রেরীর মধ্যে। অর্থাৎ বলা যেতে পারে এই লাইব্রেরী বিশ্বের পুস্তকপ্রেমী সহ ভ্রমণপিপাসুদের মন এবং চোখের তৃষ্ণা মেটাবে।


More Stories
ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড যেন যৌনতার ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান