সময় কলকাতা ডেস্ক :
ক্যানিংয়ের হাড়হিমকরা হত্যাকান্ডের দুদিন পরে তৃণমূল প্রতিনিধি দল ক্যানিং পরিদর্শন শেষে সরাসরি দায়ী করল বিজেপিকে। শনিবার ১৩ সদস্যের তৃণমূল প্রতিনিধি দল ক্যানিংয়ে নিহত নেতা স্বপন মাঝির বাড়ি যায় । ১৩ সদস্যের দলে ছিলেন চার সাংসদ। বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি, মন্তব্য মালা রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ প্রতিনিধিদলের।

তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য সহ তিনজন খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে শুক্রবার রাতে আফতাবউদ্দিন নামে একজনকে পুলিশ পাকড়াও করতেই জেরায় উঠে আসছে রোমহর্ষক তথ্য । ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এই খুনের ঘটনায় সে খুনিদের টিপস দিয়েছিল বলেও জেরায় স্বীকার করেছে। অন্যদিকে অন্যতম প্রধান ছয় অভিযুক্ত এখনও ফেরার।অন্যদিকে,কাকলি ঘোষ দস্তিদার,মালা রায়, শওকত মোল্লা সহ শীর্ষস্থানীয় নেতা নেত্রীদের নিয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করে ক্যানিং ।মালা রায় সহ সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন,খুনের পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে ।প্রতিনিধিদলের বক্তব্য, তাঁদের আস্থা রয়েছে পুলিশের ওপরে। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকায় ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার ক্যানিংয়ের পিয়ারপার্কে হাড়হিমকরা ঘটনায় একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে খুন হয়ে যান পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মাঝি এবং তাঁর দুই সহকর্মী ঝন্টু হালদার ও ভূতনাথ প্রামানিক। শুক্রবার ঘটনার তদন্তে গঠিত হয় পাঁচ সদস্যের সিট । শুক্রবার রাতেই ক্যানিংয়ে তিন তৃণমূল নেতা ও কর্মীকে খুনের তদন্তে নেমে একজনকে গ্রেপ্তার করলেন তদন্তকারীরা। আফতাবউদ্দিন শেখ নামে ওই অভিযুক্তকে কুলতলি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।উল্লেখ্য স্বপন মাঝির দাদা মধু মাঝি এফ আই আরে ছজনের নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছিলেন। রফিকুল সর্দার, জালালউদ্দিন আখন্দ, বশির শেখ, বাপি মণ্ডল, এবায়দুল্লাহ মণ্ডল ও আলি হোসেন লস্করের নাম রয়েছে এফআইআরে।ধৃত আফতাবউদ্দিন এফআইআরে উল্লিখিত বশির শেখের দাদা।
তদন্তে যা উঠে এসেছে তা থেকে তদন্তকারী দলের কাছে পরিষ্কার,খুনের দিনতিনেক আগে স্বপন মাঝিকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। ক্যানিংস্থিত ধর্মতলার একটি মাঠে বসেই খুনের ছক কষেছিল অভিযুক্তরা। খুনের ব্লু প্রিন্টে স্থির হয়েছিল, বৃহস্পতিবার সকালেই হত্যাকান্ড সংঘটিত হবে । সে কারণেই বুধবার রাত থেকে স্বপনবাবুর গতিবিধির উপর তীক্ষ্ম নজর ছিল আফতাবউদ্দিনের। তিনি কোথায় যাবেন অথবা সঙ্গে কারা থাকবে সবকিছুর খুঁটিনাটি তথ্য খুনের নকশাকারী দিতে থাকে আফতাবউদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকালেও বেরনোর পর থেকে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মাঝির উপর নজরদারি চালায় ধৃত। এমনকী বাইকে চড়ে তাঁকে অনুসরণও করতে থাকে সে। ফলশ্রুতি, বৃহস্পতিবার সকাল নটার সময় স্বপন মাঝি ও তাঁর দুই সঙ্গী পিয়ার পার্কের কাছে আততায়ীদের গুলি এবং ধারাল অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে খুন হয়ে যান। আফতাবউদ্দিন শেখকে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতকে জেরা করে অন্যান্য অভিযুক্তদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে ধারণা তদন্তকারী দলের।অন্যদিকে, এলাকার পরিস্থিতি এখনও থমথমে। দোষীদের দ্রুত ও চরম শাস্তির দাবি এখনও অব্যাহত।।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী