Home » ওরেল নেই, আছে তাঁর দেওয়া রক্তের বন্ধনের বার্তা

ওরেল নেই, আছে তাঁর দেওয়া রক্তের বন্ধনের বার্তা

সময় কলকাতা ডেস্ক : ১৯৬২ সালে ভারত ক্যারিবিয়ান সফরে যায়।নরি জামসেদজি কন্ট্রাক্টর সেবার সফরকারী ভারতীয় দলের অধিনায়ক।ভারত প্রথম টেস্টে শোচনীয়ভাবে হেরে যায় ।দ্বিতীয় টেস্টের আগে বারবাডোজে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়েস্টইন্ডিজের ফাস্ট বোলিং জুটি গ্রিফিথ – হল জুটি সমৃদ্ধ বারবাডোজের বিপক্ষে ভারত খেলতে নামে। সেটাই ছিল নরি কন্ট্রাকটারের শেষ ম্যাচ। তখন হেলমেটের প্রচলন হয় নি। গ্রিফিথের একটি বাউন্সার আছড়ে পড়ে কন্ট্রাক্টরের মাথায়। প্রচন্ড গতিতে মাথার পেছনে বলটি আঘাত করে। খুলি ফেটে যায় প্রবল আঘাতে।হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় নরিকে।যমে-মানুষে পাঞ্জার মধ্যে তাঁর শল্য চিকিৎসা (সার্জারি ) চলে দীর্ঘসময়। অচেতন নরিকে বাঁচাতে তাঁকে রক্ত দিতে পারে এমন ভারতীয় ক্রিকেটারদের তালিকা করা হয়। কিন্তু সে সময় সবার আগে রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক ওরেল। তিনি রক্তদান করে মানবিকতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত গড়েন। তাঁর উদ্যোগ বোঝায় মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন সবকিছুর উর্দ্ধে।

ছ দিন অচেতন থাকার পরে নরি বেঁচে ওঠেন। আজও তিনি বেঁচে আছেন।৬০ বছর কেটে গেছে।বারবাডোজের সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতির। এই সেদিন,এবছরই,মাথার ধাতব পাত বার করা হয়েছে ৮৮ বছরের নরির। কিন্তু আজ থেকে ৫৫ বছর আগে, রক্তদানের বছর পাঁচেক পরে লিউকোমিয়া ধরা পড়ে ফ্রাঙ্ক ওরেলের। ১৯৬৭ সালে,মাত্র ৪২ বছর বয়সে, প্রয়াত হন ওরেল।

ক্রিকেটার হিসেবে ৫১ টি টেস্টে ৯ টি শতরান সহ প্রায় চার হাজার রানের অধিকারী আর ৬৯ টি উইকেটের প্রাপক ওরেলকে ভারত মনে রাখবে একজন মহান মানুষ হিসেবে। সিএবি তাদের প্রতিষ্ঠা দিবসকে ১৯৮১ সাল থেকে পালন করে আসছে স্যার ফ্রাঙ্ক ওরেল দিবস হিসেবে। সেদিন রক্তদান উৎসব পালিত হয়। ফ্রাঙ্ক ওরেলের জন্মদিন অবশ্য ১৯২৪ সালের ১ আগস্ট।বেঁচে থাকলে এদিন তাঁর বয়স ৯৮ হত। অনেকদিন আগেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। রয়ে গেছে মানবিক সৌরভ মাখা তাঁর উদার মানবিকতার স্মৃতি।।

About Post Author