Home » বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার সুফল সাধারণের মাঝে পৌঁছে দিয়েছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র রায়

বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার সুফল সাধারণের মাঝে পৌঁছে দিয়েছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র রায়

সময় কলকাতা ডেস্ক:  বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার সুফল প্রফুল্লচন্দ্র রায় পৌঁছে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের মাঝে। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বলতেন, ‘আমার সমস্ত কিছুর কেন্দ্রবিন্দুই এদেশের মানুষ ভালো থাকবে বলে।’

এই বিখ্যাত মানুষটির জন্ম ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট, খুলনার পাইকগাছার রাড়ুলি গ্রামের জমিদার পরিবারে।

একসময় তার মাসিক আয় ছিল পৌনে দুই হাজার টাকা। অথচ তিনি তার সকালের খাবারের জন্য বরাদ্দ রাখতেন ১ পয়সা। মাসিক আয় থেকে নিজের জন্য মাত্র ৪০ টাকা রেখে দান করে দিতেন সব। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত এই দশ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি একাই দান করেছিলেন ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

আজ যে আমরা মারকিউরাস নাইট্রাইড ব্যবহার করি তার জনকও তিনি, কেবল তাই নয় ১২টি যৌগিক লবণ এবং ৫টি থায়োএস্টারের আবিস্কারক তিনি।

প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের হাতেই সৃষ্টি হয়েছিল ভারতবর্ষের প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। একজন বিজ্ঞানী হলেও স্বদেশি আন্দোলনের প্রথম পর্যায় থেকেই আন্দোলনে যুক্ত থাকায় ব্রিটিশ গোয়েন্দা দপ্তরে তার নাম লেখা ছিল ‘বিজ্ঞানী বেশে বিপ্লবী’।

তিনি দেখলেন বাঙালিদের ব্যবসা নিয়ে হীনমন্যতা। ভাবলেন দেশীয় সম্পদ আর দেশীয় শিল্প বিপ্লবের কথা। তাই ১৮৯২ সালে কলকাতায় মাত্র ৭০০ টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তুলেছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড।

খুলনা টেক্সটাইল মিলস তার হাতেই গড়া। তরুণদের ব্যবসা করতে দারুণভাবে উদ্বুব্ধ করতেন তিনি। বলতেন ‘লক্ষ্য স্থির করো। ঝুঁকি নাও। কেবল মুখস্ত বিদ্যার জন্য নয়, পড়ো কারিগরি শিক্ষা অর্জনের জন্য। চাকরি না করে ব্যবসা করো। একটা সমগ্র জাতি শুধুমাত্র কেরানী হয়ে টিকে থাকতে পারে না।’

About Post Author