সময় কলকাতা ডেস্কঃ কাবুলে আত্মঘাতী হামলায় মৃত্যু হল কুখ্যাত তালিবান নেতা রহিমুল্লাহ হাক্কানী। বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি স্কুলে বড়সড় বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণের মধ্যেই পড়ে যান হাক্কানি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। দীর্ঘদিন ধরেই হাক্কানিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল। এর আগেও রহিমুল্লাহ হাক্কানির উপর হামলা হয়েছিল। সেসময় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

শেখ হাক্কানি ছিলেন আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের সমর্থক এবং জিহাদি জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট কোহরাসান প্রদেশের একজন বিশিষ্ট সমালোচক। ২০১৩ সালের অক্টোবরে পেশোয়ারের রিংরোডে এক বন্দুকধারী আচমকায় হামলা চালায় হাক্কানী উপর, সেই সময় নিরাপদে পালাতে সক্ষম হন রহিমুল্লাহ হাক্কানি। রহিমুল্লাহ হাক্কানি নাঙ্গারহার প্রদেশের তালিবান সামরিক কমিশনের সদস্য ছিলেন। পরে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং পাঁচ বছর বাগরাম কারাগারে বন্দী ছিলেন। আফগানিস্তানের একাধিক প্রদেশে ইতিমধ্যেই তালিবানিদের নিয়ে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মালা কান্দ প্রদেশে তালিবানিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন “দেশকে তোমরা কোথায় নিয়ে যেতে চাও,দয়া করে শান্তিতে থাকতে দাও”। একদিকে মানুষের বিক্ষোভ অন্যদিকে তালিবান নেতা রহিমুল্লাহ হাক্কানি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঝড় উঠেছে।

সংবাদ সংস্থা বিবিসি-র সুত্র মারফত জানা গিয়েছে,তালিবানিদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে ধর্মীয় নেতাকে ছক কষে হত্যা করা হয়েছে। মূলত তাঁকেই টার্গেট করা হয়েছিল। এও জানা গিয়েছে, টার্গেটকারী আততায়ীর একটি পা নেই। কৃত্রিম পায়ের প্ল্যাস্টিকে বেঁধে বোমা নিয়ে এসেছিল স্কুলে। এরপর আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটায় স্কুলে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে বা কারা যুক্ত তা জানা যায়নি। কোনও জঙ্গি এখনও পর্যন্ত গোষ্টী হামলার দায় স্বীকার করেনি।


More Stories
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
হরমুজ প্রণালী, রান্নার গ্যাস ও তেল এবং ভারত -ইরানের সম্পর্ক
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত