সময় কলকাতা ডেস্কঃ ২০০২ গণধর্ষণ এবং খুনকাণ্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জন দোষীকে স্বাধীনতা দিবসের দিন মুক্তি দিয়েছে গুজরাটের বিজেপি সরকার। একদিকে নারীশক্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অন্যদিকে গুজরাট সরকারের এই সিদ্ধান্ত। বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ বিরোধীদের।
স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নারীশক্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন। নারী নিরাপত্তা দিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। নারী যোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে তিনি জানান, দেশবাসী তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। দেশবাসী মন দিয়ে শুনেছিলেন সেই কথা। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্য শোনার পরেই কানে আসে আরও এক কথা, যা দেশবাসীকে ভাবিয়েছিল। ২০০২-এর গুজরাট দাঙ্গার সময় বিলকিস বানো গণধর্ষণ এবং পরিবারের সাতজনকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জন দোষীকে সোমবার মুক্তি দিয়েছে গুজরাটের বিজেপি সরকার। মুক্তি পাওয়া আসামিরা হল যশবন্তভাই নাই, গোবিন্দভাই নাই, শৈলেশ ভাট, রাধেশাম শাহ, বিপিন চন্দ্র জোশী, কেসরভাই ভোহানিয়া, প্রদীপ মোর্ধিয়া, বাকাভাই ভোহানিয়া, রাজুভাই সোনি, মিতেশ ভট্ট এবং রমেশ চন্দনা। দোষীরা গোধরার সাব-জেলে আটক ছিল। সোমবার গোধরা জেল থেকে সকলেই বেরিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

২০০৮ সালে প্রত্যেককেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু, গুজরাট সরকারের শাস্তি মকুবের নিয়ম অনুযায়ী, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার আবেদন করে দোষীদের একজন। তার আবেদনের ভিত্তিতেই ১৫ বছর কারাবাসের পর সকলের শাস্তি মকুব করে দিয়েছে গুজরাট সরকার। গুজরাট সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। সরব হয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের আক্রমণ, এটাই ‘এটা কি অমৃত মহোৎসব?‘সরব হয়েছেন এআইএমআইএম সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। টুইটে বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আজাদির অমৃত মহোৎসবের বিজেপি সংস্করণ। একটি ধর্মের প্রতি বিজেপির পক্ষপাতিত্ব এমন যে এমনকি নৃশংস ধর্ষণ এবং ঘৃণ্য অপরাধও ক্ষমাযোগ্য।’ সিপিএম জানিয়েছে, এটাই নিউ ইন্ডিয়ার আসল চেহারা। সরব হয়েছে বাংলার শাসকদলও। ভারতবর্ষের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে যেভাবে ব্যঙ্গ করেন প্রধানমন্ত্রী, তাতে নারীদের প্রতি সম্মান নিদর্শন বোঝায়! বিজেপি শাসিত রাজ্যের মহিলারাও ন্যায্য বিচার পাচ্ছেন না। সরব রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে গুজরাটের সবরমতী এক্সপ্রেসের কয়েকটি কোচে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় গোটা রাজ্যে। আগুনে ৫৯ জন করসেবক নিহত হন। অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গোধরায় লাগে দাঙ্গা। এলাকা থেকে সপরিবারে পালিয়ে গিয়ে বিলকিস বানো একটি খোলা মাঠে আশ্রয় নেন। সেসময় তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সেখানেই তাঁকে গণধর্ষণ এবং পরিবারের ৭ জনকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু করে সিবিআই। দোষী সাবস্ত হন ১১ জন। তবে, স্বাধীনতা দিবসে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের মুক্তি দেওয়া নতুন সিদ্ধান্ত নয়। প্রতিটি রাজ্যই স্বাধীনতা দিবসের দিন দীর্ঘদিন জেলে থাকা বন্দিদের মুক্তি দেয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও ১৫ আগস্ট ৯১ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ বিভিন্ন সময়ে প্রমাণ দিয়েছে, জেল হল সংশোধনাগার। বন্দিরা নিজেদের সংশোধন করলে, আগাম মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ বলবৎ হয় না। সেক্ষেত্রে গুজরাট সরকারের এই সিদ্ধান্ত কতটুকু গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর