সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক : মোহনবাগানের কাছে হেরেই চলেছে ইস্টবেঙ্গল। একসময় মুখোমুখি লড়াইয়ে পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকলেও ইদানীং সবুজ মেরুনের বিরুদ্ধে সাধারণত পরাজয়-ই ললাটলিখন হয়ে উঠেছে লালহলুদের। সাবেক ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস বদলেছে।
রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এটিকে মোহনবাগানের কাছে এক গোলে হারল ইমামি ইস্টবেঙ্গল। আত্মঘাতী গোলে হার। ভারতের হয়ে ৮ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৩ গোল করা সুমিত পাশি খেলার প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন।আর গোল হয় নি। লাল হলুদ গোলরক্ষক কমলজিৎ সেরা ফর্মে না থাকলে ব্যবধান আরও বাড়ত।
প্রাক্তন খেলোয়াড় ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,ইমামি ইস্টবেঙ্গলের এই পরাজয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মূলত একটি বিষয় যার দুটি দিক রয়েছে । আই এস এলে যোগদান করার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ক্লাবের থিতু না হতে পারছে না । চুক্তির জট কাটতে বিলম্ব হচ্ছে। গত তিন মরশুমে একইভাবে পরিকল্পনার অভাব ঘটছে স্রেফ শেষ সময় স্পনসরের সঙ্গে গাটঁছড়া হওয়ায়। তিনবার তিন সংস্থার সঙ্গে গাটঁছড়া এবং তাও বিলম্বিত হয়েছে ।ফলে দুরকম অসুবিধা দেখা দিচ্ছে দলগঠনে।প্রথমত, কোনও বারই সেরা মাপের ভারতীয় জুটছে না। আগেই তাঁরা অন্য দলে সই করে ফেলছেন। গত কয়েক মরশুমে ভারতীয় প্রথম দলে ধারাবাহিক খেলেন এরকম একজনও ইস্টবেঙ্গলে নেই। সেখানে মোহনবাগান এরকম একাধিক খেলোয়াড় রয়েছেন।একসাথে তাঁরা একাধিক বছর খেলছেন।

দ্বিতীয়ত,বিদেশী খেলোয়াড় রিক্রুটে ইস্টবেঙ্গল অনেক পিছিয়ে। একার হাতে রং বদলে দেবেন এরকম খেলোয়াড় ইস্টবেঙ্গলের আই এস এলের প্রথম মরশুমে একাধিক ছিলেন। সেবার ব্রাইট ও স্টেনম্যান থাকলেও পরের মরশুমে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় একজনে। চিমা সিস্টেমে না খাপ খাওয়াতে পেরে দল ছাড়ায় পেরেসোভিচ ছাড়া কেউ ছিলেন না। এবছর সেরকম কোয়ালিটি খেলোয়াড় একজনও আছেন কিনা সন্দেহ।এখন বিগত দিনের মজিদ,ওপোকু, জুনিয়ারদের মত ভালো মাপের ম্যাচ উইনার বিদেশীর অভাব লাল হলুদে । দু একজন ভালো যারা আসছেন তাঁদের প্রত্যেকে তিরিশ ছাড়িয়েছেন।তাঁরা সেরা সময় ফেলে এসেছেন।ব্রাইট বা স্টেনম্যান দ্রুত দল ছেড়েছেন। অথচ এটিকে মোহনবাগানে খেলেছেন রয় কৃষ্ণা, জনি কাউকো, বুমোস।অনেকেই একাধিক বছর ধরে খেলেছেন বা খেলছেন গত কয়েক বছরে ধারালো অস্ত্রের অভাব হয় নি এটিকে মোহনবাগানের। কারণ মোহনবাগান ও এটিকে জোট বাঁধার পরে জট পাকায় নি।
ইস্টবেঙ্গল কোচ কনস্ট্যানটাইন ডুরান্ড কাপে ইস্ট-মোহন ম্যাচের আগেই ললাট লিখন পড়তে পেরেছিলেন, বলেছিলেন একটা হারে কিছু আসবে – যাবে না। বাকি মরশুমেও লাল হলুদের ফল ভালো হতে পারবে না যদি না তরুণ ভারতীয় ফুটবলার যেমন তুহিন, অনিকেত, হিমাংশু জাংড়া, নুঙ্গা, সুহেররা নিজেদের চরম উচ্চতায় নিয়ে না যান । ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ থেকে প্রাক্তন ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনায় যে অপ্রিয় সত্য নির্যাস হিসেবে সামনে আসছে তা হল – বয়স্ক মাঝারিমাপের বিদেশী নিয়ে বেশি আশা না করাই ভালো ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। গত তিনবছর ধরে ইস্টবেঙ্গলের ভারতীয়রা মোহনবাগানের স্বদেশি খেলোয়াড় যেমন লিস্টন কোলাসো, মনবীর, প্রীতম কোটাল প্রমুখদের তুলনায় মাঠে দক্ষতায় পিছিয়ে পড়ছেন বারবার। হারের ভার বেড়েই চলেছে ইস্টবেঙ্গলের।।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার