Home » মৃত্যুর আগে হকির যাদুকর ধ্যানচাঁদ কী বলেছিলেন?

মৃত্যুর আগে হকির যাদুকর ধ্যানচাঁদ কী বলেছিলেন?

পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা ডেস্ক : হকির জাদুকর ধ্যানচাঁদ, তাঁর জন্মদিন ২৯আগস্ট। ধ্যানচাঁদ ও তাঁর জীবন নিয়ে একটি প্রতিবেদন।

জীবনে সফল হতে যেভাবে বিদ্যাসাগর স্ট্রিটলাইটে পড়তেন,যেভাবে নাইট ক্লাসে পড়াশুনো করে কর্মে নিযুক্ত মানুষ,দিনের বেলা কাজ সেরে চাঁদের আলোর অপেক্ষা করতেন ধ্যানচাঁদ যার প্রকৃত নাম ধ্যান সিংহ।সেনাবাহিনীর ধ্যান সিংহ চন্দ্রালোকিত রাতের অপেক্ষা করতেন হকির স্টিক হাতে, তিনি যে রাতে হকির অনুশীলন করবেন।সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন অল্প বয়সে, দিনে সুযোগ পেলেই অনুশীলন করতেন কিন্তু সবসময় কাজের ফাঁকে অনুশীলনের অবকাশ পেতেন না। অথচ তাঁর লক্ষ্য ছিল আরও নিখুঁত হওয়া। সেসময় মাঠে ময়দানে বিদ্যুৎ বাতি আর আলোর রোশনাই তো ছিল না তাই তাঁর অপেক্ষা ছিল পূর্ণিমা রাতের। চাঁদের আলোয় অনুশীলন করার জন্য মেজর ধ্যান সিংহকে তাই ধ্যানচাঁদ নাম দেয় সহকর্মীরা । হকির বল তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছিল যা আঠার মত আটকে থাকত তাঁর হকিস্টিকে।পরবর্তীতে বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করেন ধ্যানচাঁদ।

চাঁদের আলোয় তাঁর অক্লান্ত অধ্যাবসায় আর ঈশ্বরদত্ত প্রতিভা ‘হকির যাদুকর’ করে তুলেছিল ধ্যানচাঁদকে। দেশকে হকিতে অসংখ্যবার গৌরব এনে দিয়েছেন। প্রথম শ্রেণীর প্রতিযোগিতামূলক হকিতে প্রায় ৫০০ গোল করেছেন তিনি। তিনবার অলিম্পিকে ভারতের সোনা জেতার কারিগর তিনি।২৯ আগস্ট জন্মদিন তাঁর। ১৯০৫ সালে প্রয়াগে জন্ম তাঁর।তাঁর জন্মদিন স্মরণ করে এদিনটিকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এদিন খেলার বিভিন্ন পুরস্কারে ভুষিত হন দেশের সেরা ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা।

১৯২৮ থেকে ১৯৫৬ হকিতে স্বর্নযুগ ছিল ভারতের। টানা ছবার সোনা জেতে ভারত। কথিত আছে ১৯৩৬ সালে বার্লিনে শেষ যেবার তিনি অলিম্পিকে তাঁর হকির যাদু দেখিয়েছিলেন, সেবার তাঁর স্টিকওয়ার্ক দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হন স্বয়ং হিটলার। ধ্যানচাঁদকে নাকি নাগরিকত্ব দিতেও চেয়েছিলেন তিনি । সত্যি ও কল্পনার মিশেলে কত কথা তাঁকে ঘিরে! তবে ভারত ১৯৫৬ সালের পরে দ্রুত তাঁদের হকির আধিপত্য হারাতে থাকে। ১৯৬৪ সালের পরে আর একবারই  অলিম্পিকে সোনা যেতে ভারত। ভারতের ব্যর্থতা বিষন্ন করত যাদুকরকে।১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকের সোনাজয় দেখে যাওয়া হয় নি তাঁর।লিভারের অসুখে ভুগছিলেন, ১৯৭৯ সালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ধ্যানচাঁদ। একরাশ হতাশা বুকে নিয়ে চলে যান তিনি। অর্থ তাঁকে শেষ দিকে অসুবিধায় রেখেছিল, কিন্তু রোগ বা অর্থের অভাব নয়, তাঁকে প্রকৃত পীড়া দিয়েছিল ভারতীয় হকির মানের অবনমন। মন্ট্রিওল অলিম্পিকে ভারত চূড়ান্ত খারাপ ফল করায় তিনি বলেছিলেন, খেলোয়াড়দের নিষ্ঠা নেই, ভারতের হকি ‘খতম’ হয়ে গেছে। সত্যি তো, হকিতে চাঁদের আলোর দিন আর নেই। বিগত চল্লিশ বছরে অলিম্পিকে ভারত সেরা হতে পারে নি। শোনা যায়, হকি নিয়ে হতাশার কথা উচ্চারণ করতে করতেই কোমায় চলে যান হকির যাদুকর। তাঁর মৃত্যুর বহুবছর পরেও তাঁর যৌবনের গৌরবগাঁথা আর তাঁর শেষের দিনের আক্ষেপ চর্চায় মনে হয় – তিনি আকাশের চাঁদ হয়ে আজও যেন ভারতের হকির অস্তমিত গৌরব ফিরে পাওয়ার আশায় মর্ত্যলোকের দিকে তাকিয়ে আছেন।।

About Post Author