Home » তুলু ভাষার ইতিহাস আপনাকে অবাক করবেই

তুলু ভাষার ইতিহাস আপনাকে অবাক করবেই

সময় কলকাতা :তুলু ভাষা দ্রাবিড় পরিবার তথা দক্ষিণ ভারতের তো বটেই ভারতের একটি অন্যতম প্রাচীন ভাষা এবং বহু মানুষের কাছে এই ভাষা বহুদিন ধরেই প্রধান ভাষা। প্রায় কুড়ি লক্ষ মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন ও এই ভাষাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী, তুলুভাষী মানুষের সংখ্যা ছিল ১৭লক্ষ ২২ হাজারের বেশি।তুলু ৫টি প্রধান দ্রাবিড় ভাষার একটি।কর্ণাটক এবং কেরালায় কিছু অংশে এই ভাষার মূলত ব্যবহার রয়েছে।

ভারতে মোট ৪৪৭ টি ভাষা রয়েছে। পাপুয়া নিউগিনি , ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়া ছাড়া এত ভাষা কোনও দেশে ব্যবহৃত হয় না।ভারতে কথিত ভাষার মধ্যে ৭৮.০৫ শতাংশ মানুষের ভাষা ইন্দো- ইউরোপীয়  এবং ১৯.৬৪% দ্রাবিড় ভাষা।অবশিষ্ট ২.৩১% জনসংখ্যার দ্বারা কথিত ভাষাসমূহ চিন-তিব্বতি সহ ছোটখাটো ভাষা পরিবার ও বিচ্ছিন্ন ভাষার মধ্যে পড়ে। তুলু ভাষা এই ৪৪৭ টি ভাষার একটি ।তুলু ভারতীয় জনসংখ্যার নিরিখে ০.১৭  শতাংশ মানুষের ভাষা।এই ভাষা ভারতের ২৪ তম বৃহত্তম ভাষাভাষী মানুষের মাধ্যম।বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য,ভারতের ২২ টি সাংবিধানিক স্বীকৃত সরকারি ভাষা রয়েছে। হিন্দি এবং ইংরেজি সাধারণত কেন্দ্রীয় সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক ভাষা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। তুলু ২২টি সাংবিধানিক ভাবে সরকারি ভাবে স্বীকৃত ভাষার অন্তর্গত না হলেও তুলু ভাষী জনগণ এই ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃত সরকারি ভাষার মর্যাদা দাবি করছে ও আন্দোলন জারি আছে ।

তুলু ভাষা দক্ষিণের অন্যান্য ভাষার তুলনায় অনেক আগে প্রোটো-দ্রাবিড় ভাষা থেকে বিবর্তিত হয়েছিল (দ্রাবিড় ভাষার বিবর্তনের উপর উপস্থাপিত একটি তত্ত্ব অনুসারে)।এখনও এটি প্রোটো-দ্রাবিড় ভাষার কিছু শব্দ এবং বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে। এই ভাষা অন্তত ২৫০০ থেকে ৩০০০  বছরের আগে যে বলা হত তার প্রমাণ মিলেছে।কিন্তু তুলুতে সাহিত্যের কাজ অনেক পরে শুরু হয়েছিল, কারণ তুলু কখনই কোনও রাজ্য থেকে যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি এবং এটি কেবল সেই অঞ্চলে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। বলাইবাহুল্য,সাহিত্যকর্মের উপর ভিত্তি করে ভাষার বয়স নির্ধারণ করা যায় না।

টুলুর নিজস্ব লিপি আছে যাকে তিগালারি লিপি বলা হয়।টিগালারি (তুলু লিপি) একটি দক্ষিণী ব্রাহ্মী লিপি যা তুলু, কন্নড় এবং সংস্কৃত ভাষা লিখতে ব্যবহার করা হয়। এটি লিপিটি প্রাথমিকভাবে সংস্কৃতে বৈদিক গ্রন্থ রচনার জন্য ব্যবহৃত হত।তুলু ভাষায় প্রাচীন সাহিত্যকর্ম রয়েছে। তুলু মহাকাব্য যেমন ‘সিরি পাদ্দানা’ যে কবিতা ১৫০০০ লাইনের চেয়েও বড় যা মৌখিক থেকে লিখিত আকারে এসেছে এবং কিছু শব্দে পালি ভাষার প্রভাব রয়েছে। গিরনার শিলালিপি যেখানে এর উল্লেখ থাকায়, প্রমাণিত যে ২৩০০ বছরের চেয়েও তুলু ভাষা অনেক বেশি প্রাচীন।

সময়ের সাথে সাথে তুলু  অনেক ভাষা থেকে অনেক শব্দ নিয়ে বিবর্তন ঘটিয়েছে যদিও তুলু ভাষা নিজস্ব স্থানীয় শব্দগুলিকে তার মূলে ধরে রেখে  বিবর্তনের পথে হেঁটেছে ।তাই আমরা তুলুকে দক্ষিণের অন্যান্য দ্রাবিড় ভাষার মতো প্রাচীন বলে বিবেচনা করতে পারি। তুলু- ভাষাভাষী এবং তুলু ভাষার সমর্থকরা তুলু ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।।

About Post Author