সানি রায়, সময় কলকাতা, ১৬ অগাস্ট :
” একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
…. তোমার জন্যে গলির কোণে
ভাবি আমার মুখ দেখাব
মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।” -কবেই লিখেছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ। কবি নিশ্চিতভাবেই আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটার অধীর বর্মনকে দেখেন নি। উত্তরবঙ্গের ধুপগুড়ি জুড়ে আশ্চর্য বিচরণ তাঁর। অধীর বর্মনের মুখ জুড়ে শুধু নয়, শরীর জুড়ে বিজ্ঞাপন। ধূপগুড়িতে তিনি মানব বিজ্ঞাপন বা হিউম্যান বিলবোর্ডের আধুনিকতম সংস্করণ। ফারাক শুধু একটাই, অধীর বর্মন নিজেই প্রচারক, নিজেই বিক্রেতা। ওয়ান-ম্যান আর্মি তিনি।
কী নেই অধীর বর্মনের শরীর জুড়ে! চলমান একটি দোকান তিনি।সেফটিপিন, ইঁদুর আরশোলা মারার ওষুধ, কানের নোংরা পরিষ্কার করার পিন থেকে শুরু করে সুচ-সুতো। বেশভুষা দেখলেও তাক লেগে যাবে! আপাদমস্তক হরেক রঙের বাহার আর আজব সাজের সমাহার। মাথায় টুপি, চোখে চশমা, পায়ে লাল জুতো, সারা শরীরে অঙ্গের বসন জুড়ে পিন লাগানো হাজার পসরা। ছোটখাটো বাজার বসেছে অধীর বর্মনের শরীরে। চার বছর ধরে ধুপগুড়ির অলি -গলি -প্রান্তরে তিনি
মানব বিজ্ঞাপন বা হিউম্যান বিলবোর্ড (Human Billboard)।
ধুপগুড়ি উত্তরবঙ্গ বা বঙ্গে এই মানব বিজ্ঞাপনের প্রচার বিরল না হলেও খুব পুরনো নয়। ইউরোপ পথ দেখিয়েছিল ঊনবিংশ শতকে, তবে লন্ডনে মানব বিজ্ঞাপন শুরু হয়েছিল প্রায় ২০০ বছর আগে। মানুষ নিজের শরীর, পোশাক বা বিশেষ পিঠে ঝোলানো ব্যানার ব্যবহার করে কোনো পণ্যের প্রচার করত । ধরনটির নাম ছিল ‘হিউম্যান বিলবোর্ড’। বিখ্যাত ইংরেজ সাহিত্যিক এই ধরনের প্রচারকারী মানুষের নাম দিয়েছিলেন স্যান্ডউইচ ম্যান। অধীর বর্মন মুখে বলছেন তার আয় নেহাত কম হয় না । পরিবারে পুত্র কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে মানব বিজ্ঞাপন হয়ে উঠে আয় থেকে স্বচ্ছন্দে চালিয়ে নেন জীবন। তবুও চার বছর ধরে সংসারের চাপে কার্যতর তিনিও চার্লস ডিকেন্সের ভাষায় স্যান্ডউইচ, সারাদিন ধরে শরীরে পসরা নিয়ে ঘুরছেন, আগাপাশতলা মোড়া পণ্যে । সারাদিন, জীবনভর হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত জীবনে ব্যক্তিগত প্রাপ্তি আয়টুকু আর পরিবারকে দেওয়া নিশ্চয়তা । সাধে কী আর শঙ্খ ঘোষ বলেছিলেন , ” শহরের ব্যস্ত
নিয়ন আলোয় পণ্য হলো
“যা কিছু আজ ব্যাক্তিগত।
মুখের কথা একলা হয়ে
…. রইল পড়ে গলির কোণে
ক্লান্ত আমার মুখোশ শুধু
ঝুলতে থাকে বিজ্ঞাপনে।”


More Stories
৫ বারের তৃণমূল বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকারের রহস্য মৃত্যু
কংগ্রেস নেতা ও তার ছেলেকে নৃশংসভাবে খু*ন নাকাশিপাড়ায়
১৫ আগস্ট ইনডিপেনডেন্স ডে নয়, অর্থ গুলিয়ে ফেলে নতুন সংজ্ঞা শান্তনু ঠাকুরের