দেবিকা চট্টোপাধ্যায়, (অতিথি লেখিকা ) সময় কলকাতা :
দ্বিতীয় পর্ব (দ্বিতীয় ভাগ )
এ দৃশ্য দেখা এক নতুন অভিজ্ঞতা। ঘরবাড়ি-মাঠ- ঘাট -নদী -নালা -পুকুর -রাস্তা সমস্ত চোখের সামনে ছোট হতে হতে বিন্দুবৎ হয়ে গেল। মেঘের রাজ্যে এসে পড়লাম আমরা,উপরে নীচে পাশে চারিদিকে মেঘ ঘিরে ফেলল আমাদের। একবার ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের ফাঁক দিয়ে দেখা পৃথিবী, একবার রাশি রাশি মেঘের ভিতরে ঢুকে পড়ায় চারপাশটা সাদা হয়ে যাওয়া ।কখনো কখনো জমাট মেঘের ছায়াও দেখা যাচ্ছিল পৃথিবীর উপর। এইভাবে চলতে চলতেই মাটির সীমানা পেরিয়ে আমরা এসে পড়লাম বঙ্গোপসাগরের উপর। আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।সেই নীলের মাঝে মেঘ আর রোদের লুকোচুরি – এক অপূর্ব দৃশ্য।স্বর্গ বোধহয় এখানেই। এসবের মাঝেই বাইরে এক প্রতিকূল পরিস্থিতির ঘোষণা হল ও সীটবেল্ট বেঁধে নেওয়ার আবেদন করা হলো। বিমানসেবিকাদের নির্দেশমতো তা বাঁধতে বাঁধতেই প্লেনের দুলুনি শুরু হলো।উড্ডীয়মান পাখির মতো শূণ্যে দুটো ডানার ওঠানামা দেখতে ও অনুভব করতে পেরে আমরা একইসঙ্গে আনন্দিত, উত্তেজিত ও শিহরিত। খুব ছোটবেলায় আমার প্লেনে চড়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলেও অন্য তিনজনের তা ছিল না, তাই সবাই এ অভিজ্ঞতাটুকু তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার চেষ্টা করছিলাম,মনে এক অনির্বচনীয় আনন্দ।এই আনন্দটুকুই তো বেঁচে থাকার একমাত্র রসদ। আমি এক বিষন্নতাপ্রবণ মানুষ। কোনও এক সময় ডাক্তার দেখানোয় তিনি বলেছিলেন, আমাদের মস্তিষ্কে কিছু বিশেষ ধরনের লবণের ঘাটতিই নাকি এই বিষন্নতার কারণ এবং এই লবণের ক্ষরণকে বাড়াতে হলে মনকে উপহার দিতে হবে কিছু আনন্দের মুহূর্ত। সেই আনন্দঘন মুহূর্ত এখন আমার চোখের সামনে উপস্থিত। আকাশের দিকে তাকিয়ে, নীচের সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বুকের ভিতর জেগে উঠছিল সেই অপার্থিব আনন্দ যা মাথার মধ্যে বিশেষ লবণ, সেরেটোনিন এর ক্ষরণ বাড়িয়ে তোলে বলে ডাক্তারবাবু জানিয়েছিলেন। সুখানুভূতির সঙ্গে সঙ্গে মাথার ভিতরে সেরেটোনিন এর ক্ষরণ হতে থাকল,হতেই থাকল।
তৃতীয় পর্ব আগামীকাল


More Stories
সুনতালেখোলা : কমলালেবুর স্রোত,ঈশ্বরের পবিত্র বাসভূমি
দোলের ছুটি উপভোগ করতে কোথায় যাবেন? সোজা চলে আসুন নেওড়া ভ্যালি জঙ্গল ক্যাম্পে
স্বপ্নপুরী পাশাবং : আগামীর গ্রামীণ পর্যটনের মডেল