সময় কলকাতা ডেস্কঃ ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। ফের ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার এলাকার এক বাসিন্দার। মৃত ব্যক্তির নাম আনন্দ নস্কর। গত মঙ্গলবার জ্বর নিয়ে ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুদিন পর তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে সোমবার তাঁকে ফের ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আনন্দবাবুকে। সেখানেই মঙ্গলবার মৃত্যু হয় আনন্দ বাবুর। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে আনন্দ নস্করের। যদিও হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা হয়নি বলেই দাবি মৃতের স্ত্রীর।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৪ জন। অন্যদিকে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি প্রাক্তন ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্যও। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে বেশকিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত ওষুধের পাশাপাশি, আরও বেশি করে রক্ত পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, কলকাতা, হুগলি, জলপাইগুড়ি, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় কেন ডেঙ্গি বাড়ছে? তা নিয়েও গত সপ্তাহে একটি বৈঠক করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। উত্তর ২৪ পরগনায় ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে উদ্বেগজনক। প্রশাসনকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে বলেই জানান মুখ্যসচিব। ডেঙ্গি প্রতিরোধে সাফাই অভিযান কতটা হচ্ছে? ঠিকমতো মানুষের কাছে প্রচার করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রতিটি ওয়ার্ডস্তরে মাইক্রো প্ল্যান করার নির্দেশও দেন তিনি।

গত এক সপ্তাহ ধরে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ডেঙ্গি আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। তার মধ্যে বিধাননগর পুর এলাকাতেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। অন্যদিকে দক্ষিণ দমদমে এই মুহূর্তে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩৭। দৈনিক গড়ে ১২-১৫ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছেন বলেই পুরসভা সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি মোকাবিলায় বিধাননগর ও দক্ষিণ দমদম পুরনিগমকে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। স্বাস্থ্য ভবনের তরফে ইতিমধ্যেই ফাঁকা জমি ও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় থাকা বাড়িগুলিতে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিধাননগর পুরনিগমের তিনটি হাসপাতালে বেডের সংখ্যাও বাড়াতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ফের একবার স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা ড্রোন উড়িয়ে খালগুলিতে জীবাণুনাশক স্প্রে করার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও কালীপুজো প্যান্ডেলগুলির উপরেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। সূত্রের খবর,কলকাতায় এখনও পর্যন্ত বন্ধ অবস্থায় থাকা ১৮০টি বাড়িতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে ঢুকে পুরকর্মীরা সাফাই করেছেন।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী