Home » রাষ্ট্রপতিকে কুরুচিকর মন্তব্যের জের, বিজেপির মুলতুবি প্রস্তাব খারিজ বিধানসভার স্পিকারের 

রাষ্ট্রপতিকে কুরুচিকর মন্তব্যের জের, বিজেপির মুলতুবি প্রস্তাব খারিজ বিধানসভার স্পিকারের 

সময় কলকাতা ডেস্কঃ দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী অখিল গিরির মন্তব্যের জেরে সোমবার বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব জমা দিল বিজেপি পরিষদীয় দল। মুলতুবি প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, অখিল গিরিকে বরখাস্ত করতে হবে। আদিবাসীদের পাঞ্চি উত্তরীয় পরে এবং দ্রৌপদী মুর্মুর স্টিকার জমায় সেঁটে বিধানসভা কক্ষে প্রবেশ করেন বিজেপি বিধায়করা। যদিও এই প্রস্তাব খারিজ করে দেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা বিধানসভার কক্ষে চিৎকার করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। অধিবেশনের প্রথমার্ধ শেষ হতেই বিজেপি বিধায়করা স্লোগান দিতে দিতে বাইরে বেরিয়ে যান।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই নন্দীগ্রামের একটি জনসভা থেকে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সভামঞ্চে আগুন লাগানোর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নাকি দেখতে খারাপ। নিজের রূপের বিচার যদিও করি না। তোমার রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু তোমাদের রাষ্ট্রপতি কেমন দেখতে বাবা!’ আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এহেন মন্তব্যের পরই সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রীতিমতো নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা দেশে। শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদারের মতো নেতারা নিন্দায় সরব হয়েছিলেন। জেলায় জেলায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিল গেরুয়া শিবির।

তারপরই এই ইস্যুতে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। অখিল গিরির মন্ত্রিত্ব খারিজ করার দরবার জানাতেই রাজভবনে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘কারা দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী অখিল গিরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদীকে অপমান করে খুব বাজে কথা বলেছেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি আমাদের সাংবিধানিক প্রধান এবং তিনি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। তাঁকে অপমান করা মানে দেশকে অপমান করা। মাননীয় রাষ্ট্রপতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের। এই আবহে মন্ত্রীর এহেন মন্তব্য প্রমাণ করে যে তাঁর মানসিকতা কতটা আদিবাসীবিরোধী।’

যদিও অখিল গিরির এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। অখিল গিরির হয়ে ক্ষমাও চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অখিল গিরির মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে অখিলের এই মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। দল থেকে সতর্ক করা হয়েছে অখিলকে। রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি, অন্যায় করেছে অখিল গিরি। আমার বিধায়কের তরফে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য যেন না করা হয়। ভবিষ্যতে এই ধরণের মন্তব্য করলে দল উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’

About Post Author