Home » সভামঞ্চে চটলেন মুখ্যমন্ত্রী

সভামঞ্চে চটলেন মুখ্যমন্ত্রী

সময় কলকাতা ডেস্ক:  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বছরের প্রায় প্রতিটি সময়ে প্রশাসনিক বৈঠক করে থাকেন। আর সেই সব প্রশাসনিক বৈঠকে বিভিন্ন তৃণমূল নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন আমলারাও থাকেন। মঙ্গলবার ছন্দপতন ঘটল উত্তর ২৪ পরগনার শামশেরনগর হিঙ্গলগঞ্জে। তাঁর যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল মূলত সুন্দরবনের মানুষ কেমন আছেন সেটাই দেখার। কিন্তু তারা কেমন আছেন জানতে গিয়েই এই ছন্দপতনের ঘটনা। তিনি প্রশাসনিক সভা থেকে সেখানকার মানুষের জন্য শীত বস্ত্র প্রদান করতে গিয়ে দেখেন পনের হাজার শীত বস্ত্র সভা মঞ্চে পৌঁছাইনি। তিনি ওই সভা মঞ্চেই যথেষ্ট ক্ষুব্ধ হন।ওই ১৫ হাজার শীত বস্ত্রের মধ্যে ছিল পাঁচ হাজার সোয়েটার, পাঁচ হাজার কম্বল, পাঁচ হাজার চাদর। তিনি সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত সরকারি আমলাদের প্রশ্ন করেন কোথায় গেল সেই শীত বস্ত্রগুলি। মুখ্যমন্ত্রীকে বলা হয় শীতবস্ত্রগুলো রাখা রয়েছে বিডিও অফিসে, তা শুনেই মুখ্যমন্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর ভিডিওকে সমস্ত শীত বস্ত্র আনার নির্দেশ দেন। এবং তিনি বলেন প্রশাসন যদি কথা না শুনে তাহলে কিন্তু তিনি অ্যাকশান নেবেন। তিনি সভা মঞ্চেই প্রকাশ্যে বলেন প্রশাসন ভুল করলে তো আমাকে মানুষের কথা শুনতে হয়। পুলিশ দোষ করলে আমাকেই দায়ী করে মানুষ। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন শীতবস্ত্রগুলি মঞ্চে আনার জন্য। পাশাপাশি তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যেও বলেন আপনারা কেউ যাবেন না, অপেক্ষা করুন আমিও অপেক্ষা করছি। বলে তিনি তার চেয়ারে বসে পড়েন।

এর আগে তিনি সেখানেও পৌঁছেই বনবিবির মন্দিরে পুজো দেন।তারপর তিনি সভা মঞ্চ থেকেই বনবিবির মন্দিরকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার কথাও তিনি ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তিনি হিঙ্গলগঞ্জের মানুষ যেন ঠিকমতো সরকারি পরিষেবা পায় সেতাও ঘোষনা করেন।

ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে যে অঞ্চলে মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছেন সে অঞ্চলে তৃণমূল যথেষ্টই দুর্বল সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দুর্বল মাটিকে সবল করার জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর তাহলে কি এমন কিছু আমলা বা এমন কিছু অফিসার রয়েছেন যারা অন্তর্ঘাটের চেষ্টা করেছেন? অবশ্য এই ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার কোন সিদ্ধান্ত যদি ভুল হয় তার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে সেই ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

About Post Author