সময় কলকাতা ডেস্কঃ আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ হল থানকুনি পাতা। থানকুনি পাতার ব্যবহার অনেক যুগ আগে থেকেই গ্রামাঞ্চলে চলে আসছে। এই পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুণ। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে খুবই উপকারী। খাদ্য উপায়ে এর সরাসরি গ্রহণ রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। নানান জায়াগায় থানকুনি পাতাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললেই সবাই চেনে।একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন-
চুল পড়া কমায়
সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুল পড়ার মাত্রা কমতে শুরু করে। চুল পড়ার কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলকি মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। সবশেষে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ১০ মিনিট পরে ঠাণ্ডা জলে ভাল করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ২ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন চুল পড়া অনেকটাই কমে যাবে।
ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
থানকুনি পাতায় রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড,বিটা ক্যারোটিন,ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিক্যাল। যা ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
হজম ক্ষমতা বাড়ায়
থানকুনি পাতা হজমেও বেশ সাহায্য করে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে,থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারী উপাদান হজমে হতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।
কাশির প্রকোপ কমে
২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়।আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই।সেক্ষেত্রে কাশির কোনও চিহ্নই থাকবে না।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে
গ্যাস-অম্বলের হাত থকে রেহাই পেতে ঘরে রাখুন থানকুনি পাতা।হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রন থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থেকে উপকার মিলবে।


More Stories
প্রাথমিক স্কুলের পাশেই পরিত্যক্ত ও আগাছায় ভরা কুয়ো! ভয়ে একা বেরোয় না শিশুরা
হাওড়ার ভাগাড়ের জঞ্জাল থেকে বিদ্যুৎ তৈরির পরিকল্পনা
শীতকালে ঠোঁট ফাটা নিয়ে চিন্তা? মেনে চলুন এই চার টিপস, লাগবে না কোনও পেট্রোলিয়াম জেলি