সময় কলকাতা ডেস্কঃ প্রায় ২ বছর আগে মোদি সরকার ঘোষণা করেছিল যে দেশের সবপ্রান্তে উচ্চ গতি সম্পন্ন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালানো হবে। যার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘন্টায় ১৮০ কিমি। আমেদাবাদ, মুম্বইতে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রথম এই এক্সপ্রেস চালানো হয়। কিন্তু, শেষমেশ ঘোষণাই ছিল, চালানো আর হয়নি। পরে বিজেপি শাসিত রাজ্য যেমন কর্ণাটক, হিমাচলপ্রদেশ এবং গুজরাটে খুব ধীরগতিতেই চালু হয় এই এক্সপ্রেস। কথা ওঠে, রেলট্রাকের সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়েও চালু করা হয় এই এক্সপ্রেস। সামনেই ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচন। ঘোষণা ছিল আছেই। শুধু ছিল অপেক্ষা। নববর্ষের মুখে বাংলার মানুষকে বড় উপহার দিতে আগেই থেকে ছিল প্রস্তুতি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নববর্ষের মুখে চালু হতে চলেছে হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। ৩০ ডিসেম্বর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরইমধ্যে সোমবার হয়ে গিয়েছে ট্রায়াল রান। তবে, এই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে কি এমন অভিনবত্ব রয়েছে, যা নিয়ে এতো মাতামাতি? জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরে চলা রাজধানী, শতাব্দী, দুরন্ত এক্সপ্রেসের সঙ্গে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে, যা নিয়ে এতো মাতামাতি। রেল কতৃপক্ষকে মতে, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস গতি এবং যাত্রী স্বচ্ছন্দ দুই ক্ষেত্রেই দুরন্ত এক্সপ্রেস, রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো তথাকথিত কুলীন ট্রেনগুলিকে টেক্কা দিচ্ছে। দেশের কুলীন এক্সপ্রেস হিসেবে পরিচিত রাজধানী, শতাব্দী, দুরন্তর সঙ্গে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে বন্দে ভারতের। প্রশ্ন ওঠে কি কি পার্থক্য রয়েছে দেশের আর বাকি এক্সপ্রেসগুলোর সঙ্গে বন্দে ভারতের? এক নজরে দেখে নিন-

১. গতিবেগ – রেল সূত্রে খবর, সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। যদিও এই মুহূর্তে ভারতের কোনও লাইনেই এই গতিতে চলছে না বন্দে ভারত। এই মুহূর্তে ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকছে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। গড়ে ট্রেনটি চলবে ১১০ কিলোমিটার গতিতে। জানানো হয়েছে, ধীরে ধীরে বন্দে ভারতের গতি আরও বাড়ানো হতে পারে। এদিকে, রাজধানী, শতাব্দীর মতো ট্রেনগুলিও অবশ্য সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমটার গতিতে চলতে পারে। তবে এই ট্রেনগুলির গড় বন্দে ভারতের থেকে সামান্য কম।
২. ব্রেক: বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতি অন্য সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের থেকে বেশি থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই এর ব্রেকিং সিস্টেম আরও উন্নত। বন্দে ভারতের অ্যাডভান্সড রিজেনেরেটিভ ব্রেকিং সিস্টেমে ট্রেন অনেক দ্রুত থামানো যাবে।
৩. কোচ: ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের কোচগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ রেলের কোচের থেকে অনেক হালকা। যা এই ট্রেনটিকে দ্রুত ছুটতে সাহায্য করবে। যা দুর্ঘটনা রুখতে বিশেষভাবে কার্যকর। ট্রেনের দুই দিকেই থাকছে লোকো পাইলটের কেবিন। ফলে প্রান্তিক স্টেশনে সহজেই ঘুরিয়ে ফেলা যাবে ট্রেনগুলি।
৪. যাত্রীদের সুরক্ষাব্যবস্থা: ট্রেনের বাইরে প্ল্যাটফর্মের দিকে চারখানা ক্যামেরা লাগানো থাকবে। যাতে প্ল্যাটফর্মের গতিবিধি দেখা যাবে। ট্রেনের চালকরা নিজেদের মধ্যে বার্তা চালাচালি যেমন করতে পারবেন, তেমন যাত্রীদের সঙ্গেও বার্তা চালাচালির ব্যবস্থা রয়েছে নতুন এই ট্রেনে।
৫. যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য: বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে এক্সিকিউটিভ কামরাতে সিট সংখ্যা ৫২। এই কামরার সিট ১৮০ ডিগ্রি ঘুরবে গতিমুখ অনুযায়ী। অন্যান্য ট্রেলার কামরাতে ৭৮টি করে সিট থাকছে। থাকছে ডিফিউজাল লাইটিং ব্যবস্থা, ইনফরমেশন বোর্ড, ওয়াই ফাই সুবিধা, ভ্যাকুয়াম টয়লেট, প্রতিবন্ধী বান্ধব টয়লেট, জিপিএসে প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম ইত্যাদি বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে৷ প্রত্যেক সিটে লাগানো থাকবে ৩২ ইঞ্চির স্ক্রিন।
৬. ভাড়া: বাড়তি পরিষেবাগুলির জন্য যাত্রীদের ট্যাক থেকে বাড়তি কড়িও ফেলতে হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই ট্রেনের আনুমানিক ভাড়া ১৭০০ টাকা। যাত্রীদের ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক হিসেবে দেওয়া হবে ডাবের জল। সকাল সাতটায় দেওয়া হবে জল-খাবার। বেলা বারোটায় দেওয়া হবে লাঞ্চ। অন্যদিকে বিকেলে ফিরতি পথে স্ন্যাক্স হিসেবে দেওয়া হবে চা, সিঙাড়া, কেক বা মিষ্টি।

৭. পরিষেবা: রেল সূত্রে খবর, সপ্তাহে ৬ দিন পাওয়া যাবে পরিষেবা। শুধুমাত্র বুধবার বন্ধ থাকবে দেশের দ্রুততম এই ট্রেনের পরিষেবা। সূত্রের খবর, হাওড়া-জলপাইগুড়ির মাঝে মালদা টাউন স্টেশন ছাড়া আর কোথাও দাঁড়াবে না এই ট্রেন।
তবে,অন্যান্য কুলীন এক্সপ্রেসের সঙ্গে বন্দে ভারতের এত পার্থক্য থাকলেও বন্দে ভারত এক্সপ্রেস নিয়ে বেশ কয়েকটি অসুবিধাও রয়েছে। হাওড়া শিয়ালদহের মতো ব্যস্ত রুটে এই ট্রেন চালানো সম্ভব নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লোকাল ট্রেন বাতিল করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখতে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর