সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ জানুয়ারি: ৩০ ডিসেম্বর যাত্রী পরিষেবা চালুর পরই পরপর দু’দিনে দু’বার পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে। বাংলার শাসকদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। এরই মধ্যে বন্দে ভারতে এক্সপ্রেসে পাথর ছোড়ার ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। নিরাপত্তার কারণে বন্দে ভারতের কামরার বাইরে যে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে, তাতেই ধরা পড়েছে দুষ্কৃতীদের চেহারা। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাথর ছোড়া হয়নি। পাথর ছোড়া হয় বিহার থেকে। সেই ভিডিয়ো দেখেই দোষীদের খোঁজে তল্লাশি চালাতে শুরু করল পুলিশ। তারপরেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রেল নিজেই জানিয়েছে যে বিহারে ঢিল ছোড়া হয়েছিল। অথচ তিন দিন ধরে ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছে। মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে। যারা এটা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেস উদ্বোধন নিয়ে যত না আলোচনা, তার পরিকাঠামো নিয়ে যত না আলোচনা, তার থেকেও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বন্দে ভারতের ওপর হামলার অভিযোগ এবং বন্দে ভারতের উদ্বোধনী মঞ্চে জয় শ্রী রাম স্লোগানের অভিযোগ। জয় শ্রী রাম স্লোগান নিয়ে রাজনৈতিক তর্কের মাঝেই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ওপর পরপর দুবার হামলার অভিযোগ রাজ্য রাজনীতির ময়দানে তরজা অব্যাহত রেখেছে। সোমবার সন্ধ্যায় হাওড়াগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। মালদার কুমারগঞ্জ এলাকায় এই হামলা হয় বলে জানায় রেল পুলিশ। পাথরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সি-১৩ কারমার একটি দরজা। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২০ নাগাদ নিউ জলপাইগুড়িগামী ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পাথরের আঘাতে ট্রেনের জানলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সি-৩ এবং সি-৬ কামরার জানলা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই হামলায়। পর পর এই হামলার জেরে রাজনৈতিক তরজাও কম হয়নি। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ তোপ দেগে বলেছিলেন, জয় শ্রীরামের বদলা হিসেবে পাথর ছোড়া হচ্ছে না তো?
মালদহে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ঢিল ছোড়ার সেই ফুটেজ টুইট করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রেলমন্ত্রীকে মেনশন করে লিখেছিলেন, এ ঘটনার এনআইএ তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু, শুভেন্দু অধিকারী বন্দে ভারতের ভাঙা জানালার ছবি টুইট করে খোঁচাও দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করলেও তিনি বলেছিলেন, বন্দে ভারত উদ্বোধনের দিন জয় শ্রীরাম ধ্বনি তোলা হয়েছিল বলেই কি ঢিল মারা হল? তবে, রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এদিন যা জানানো হয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই মুখ পুড়েছে বিজেপির, তা বলাই বাহুল্য। এবার সরব শাসকদলও।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ, তিন দিন ধরে ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছে। মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে। যারা এটা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেকের মতে, বিজেপি এমন একটা ধারণা তৈরি করতে নেমে পড়েছে যে বাংলাকে বুঝি বিশাল কিছু দিল রেল। তা যে ঠিক নয় সেটাই মুখ্যমন্ত্রী এদিন বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি