Home » ফরাসি ঐতিহ্য বজায় রেখে মহসীন কলেজে সংস্কারের দাবি প্রাক্তনীদের

ফরাসি ঐতিহ্য বজায় রেখে মহসীন কলেজে সংস্কারের দাবি প্রাক্তনীদের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারিঃ বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়েছে। সময়ের ভারে ক্ষয় ধরেছে কাঠামোয়। কড়ি বরগা কমজোরি হয়েছে অনেকিদন আগেই।দুই শতাব্দী প্রাচীন হুগলি মহসীন কলেজ সংস্কারের প্রয়োজন ছিল আগেই।রাজ্য সরকার দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের কাজ হাতে নিয়েছে। আর সংস্কার শুরু হতেই আশঙ্কা তৈরী হয় প্রাচীন মহসীন কলেজের বঙ্কিম ভবনের ঐতিহ্য অটুট থাকবে কিনা?


বহু ইতিহাসের স্বাক্ষী হুগলির মহসীন কলেজ। যে কলেজের প্রাক্তনী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়,দ্বারকানাথ মিত্র, কানাইলাল দত্ত শহীদ সঈদ আমির আলীর মত বিখ্যাত মানুষরা।বর্তমান প্রাক্তনীরা জানতে পারেন কলেজের মূল ভবন যেটি বঙ্কিম ভবন নামে পরিচিত সেটি ভাঙা হচ্ছে। প্রাক্তনীদের পক্ষ থেকে দাবী ওঠে হুগলি মহসীন কলেজের ঐতিহ্য বঙ্কিম ভবনের গরিমাকে নষ্ট করা চলবে না। কলেজে পৌঁছে যায় সেই দাবী। অধ্যক্ষের তরফ থেকে কলেজের সেমিনার হলে প্রাক্তনীদের ডাকা হয়।পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার,কলেজের অধ্যক্ষ,হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়।পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা জানান, বঙ্কিম ভবনের যা অবস্থা তাতে গোটা ছাদটাই ভেঙে ফেলতে হবে। জানলার উপর থেকে কিছুটা দেওয়ালও নষ্ট হয়েছে সেটাও ভাঙতে হবে।প্রাক্তনীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন এতে ভবনের প্রাচীন স্থাপত্য নষ্ট হবে।তাঁরা দাবী জানান আগের অবস্থায় রেখে সংস্কার করা হোক।কলেজ অধ্যক্ষের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে বহু বিভাগকে সরানোটাই সমস্যার ।রাজ্য সরকারের সংস্কারের উদ্যোগ ও এই আলোচনার পর তিনি জানান, প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রেখেই সংস্কার করা হবে।

প্রাক্তনীদের হুগলী মহসীন কলেজ শুধু মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। দেশে ফরাসী ঐতিহ্যের এক ধারক এই কলেজের ভবনগুলি। সেই গরিমা বজায় রেখে কাজ করতে হবে পূর্ত দপ্তরকে। কিন্তু সংস্কার করতে গিয়ে বঙ্কিম ভবনের ছাদ ভাঙতে হবে সেটা তারা মেনে নিয়েছেন। চুঁচুড়ায় হুগলি নদীর তীরে ডাচদের প্রাচীন বাগানবাড়িগুলির মধ্যে অন্যতম হুগলির মহসীন কলেজ। ১৮০৪ সালে একজন ফরাসী জেনারেল পেরন কলেজটি নতুন ভাবে নির্মান করেন এবং একটি ম্যনসনের চেহারা দেন।স্ত্রীর মৃত্যুর পর পেরন ফ্রান্সে ফিরে যান। জগমোহন শীল ভবনটি ক্রয় করেন। ১৮৩৬ সালে ভবনটি মহসীন কলেজে পরিনত হয়।বর্তমানে কলেজটির সংস্কারের কাজ হাতে নিয়েছে রাজ্য।

About Post Author