সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ জানুয়ারিঃ ধস কবলিত আসানসোলের রানীগঞ্জ এলাকা বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরে পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে শহরকে বাঁচানোর দাবি জানালো রানীগঞ্জের বণিক সভাও।

আসানসোলের রানীগঞ্জ এলাকা পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে একটি ফোলানো বেলুনের ওপর যে কোনদিন গ্যাস বেরিয়ে গেলেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মাটির গহ্বরে। এমনটাই মত ভূবিজ্ঞানীদের। কারন একটা সময় কেন্দ্রীয় সংস্থা ইসিএল-এর এলাকায় যথেচ্ছভাবে খননকার্য চালিয়ে অবৈধভাবে কয়লা তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ধস নামতে শুরু করেছে। এলাকার অনেক বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এমনকি খাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে উঠছে ধোঁয়া, কোথাও আবার দাউ দাউ করে আগুনও জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। এলাকার মানুষ অনেকেই ভিটে ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আর এই নিয়ে সম্প্রতি সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উত্তরাখণ্ডের যোশীমঠের ভয়াবহ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে রানীগঞ্জের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
মঙ্গলবার এই নিয়ে রাণীগঞ্জ আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্ষীয়ান বাম নেতা বংশ গোপাল চৌধুরী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে কোল ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করলেও ২০১১ এর পরে এই সরকারের আমলে পুনর্বাসনের অগ্রগতি তেমনভাবে হলো না। অপরদিকে আসানসোল পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি প্রশ্ন তোলেন, কোল ইন্ডিয়া পুনর্বাসনের টাকা বরাদ্দ করার পরেও আসানসোল দুর্গাপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এত বছরে পুনর্বাসনের কাজ করতে পারেনি কেন?

অপরদিকে রাণীগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে আরপি খৌতান দাবি করেন, রানীগঞ্জ শহর বহু পুরনো শহর। এই শহরকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বাঁচাতে হবে। ইতিমধ্যেই শহরের বহু জায়াগায় ধসের কারনে বাড়িতে ফাটল ধরেছে। এমনকি শহরে শিশু উদ্যান, নেতাজি স্ট্যাচু, ইত্যাদি এলাকায় প্রায়ই ধস নামছে। অতএব সব মিলিয়ে বহু প্রাচীন এই কয়লা শহরে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন মানুষ।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী