Home » এই হ্রদ তীব্র ঠান্ডায় জমে বরফ হলেও শুধু একটু অংশে টলমল করে জল! কিন্তু কেন?

এই হ্রদ তীব্র ঠান্ডায় জমে বরফ হলেও শুধু একটু অংশে টলমল করে জল! কিন্তু কেন?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ মার্চ: হিমালয় পর্বতের সুউচ্চ খাঁজে খাঁজে রয়েছে অসংখ্য হৃদ। যা হিমালয়ের বরফ গলা জলে পুষ্ট। কোনওটি আকারে বিশাল আবার বেশিরভাগই হয় মাঝারি বা ছোট। এই হ্রদগুলির উচ্চতাও একেকটি কম না। আজও হিমালয়ের কোলে এমন সব আশ্চর্য হ্রদ বা লেক রয়েছে যা এখনও আবিষ্কারই হয়নি। যেগুলো আবিষ্কার হয়েছে তাঁদের মধ্যে অনেকগুলো আবার গভীর রহস্যে মোড়া। যেমন এই হ্রদটি, ১৭ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। প্রতি বছর নভেম্বর মাস থেকে বরফের পুরু আস্তরণে ঢাকা পড়ে। পরের বছর মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বরফের চাদর থাকে এই হ্রদের উপর। আমরা বলছি সিকিমের অতি পবিত্র গুরুডোঙ্গমর হ্রদের কথা।

কিন্তু আপনারা এই গুরুডোঙ্গমর হ্রদের এক রহস্য জানলে অবাক হবেন। বছরের বেশিরভাগ সময়ই এই হ্রদ কঠিন বরফের চাদরে ঢাকা থাকে। তবে সকলকে অবাক করে হ্রদটির একটা কোণায় একটা ছোট্ট অংশের জল কখনও জমে না। সে যত ঠান্ডাই হোক না কেন! সেখানে জল সারা বছর টলটল করে। ১৭,১০০ ফুট উচ্চতায় তীব্র ঠান্ডায় সবকিছুই জমে বরফ হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু গুরুডোঙ্গমর হ্রদের নির্দিষ্ট একটি অংশের জল কখনোই জমে না। সে এক অপার রহস্য।

কেন এরকম হয়?

এর পিছনে আছে গভীর রহস্য। বিজ্ঞানীরা এর প্রকৃত কারণ আজও জানতে পারেনি। তবে স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী এর পিছনে আছে এক পৌরাণিক কাহিনী। সময়টা ছিল অষ্টম শতকের কাছাকাছি। কথিত আছে সে সময় এখানে হাজির হয়েছিলেন বৌদ্ধ ধর্মগুরু পদ্মসম্ভব। যিনি ভগবান বুদ্ধের অবতার বলেই বিশ্বাস। সেই সময় অতি কঠিন পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ এই হ্রদের তীরে জীবনযাপন করতেন।

ঠান্ডায় সব জমে বরফ হয়ে থাকতো। ফলে পানীয় জলের তীব্র হাহাকার ছিল সেসময়। গুরু পদ্মসম্ভব সেই জলকষ্ট দেখে ব্যথিত হয়ে পড়েছিলেন। তখন তিনি এই গুরুডোঙ্গমর হ্রদের এক পাশের জলে হাত ছোঁয়ান। সঙ্গে সঙ্গে সেই অংশের বরফ গলে গিয়ে টলটলে জল বেরিয়ে আসে। গুরু পদ্মসম্ভব এখানকার বাসিন্দাদের বলেছিলেন যে কোনও সময়ই হ্রদের এই অংশের জল জমে বরফ হবে না। সারা বছরই এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা জল পাবেন। সে যতই তীব্র ঠান্ডা পড়ুক না কেন। আজও গুরুডোঙ্গমর হ্রদের একটি অংশে কখনও বরফ জমে না।

About Post Author