সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ মার্চ: নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন হুগলির দুই তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁদের বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা দলের মুখপাত্র শশী পাঁজা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরেক মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এদিন শশী পাঁজা বলেন, ‘আমরা বরাবর বলে এসেছি, আমরা এই দুর্নীতির সমাধান চাই। যাঁরা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের রেয়াত করা হবে না’। উল্লেখ্য, এর আগে নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হওয়ার পর রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা দলের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বহিস্কার করেছিল তৃণমূল।

মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে শশী পাঁজা বলেন, ‘তৃণমূল কখনওই দোষীদের সমর্থন করেনি। বরং তারা চায় এই দুর্নীতির তদন্তে গতি আসুক। দ্রুত এর সমাধান হোক। এই প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম প্রকাশ্যে এসেছে, দল তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করেছে। আর এখানেই অন্যান্য দলের সঙ্গে তৃণমূলের ফারাক। তৃণমূল অভিযুক্তদের সমর্থন করে না। অথচ বিজেপিকে দেখা গিয়েছে, স্পষ্টতই তাদের দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতাদের জামিনের জন্য তদ্বির করতে’। রাজনৈতিক মহলে অবশ্য ঘুরপাক খাচ্ছে অন্য প্রশ্ন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে এর আগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। গরু পাচার মামলায় বর্তমানে দিল্লিতে ইডি হেফাজতে রয়েছেন বীরভূম তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু তৃণমূল এখনও পর্যন্ত তাঁদের বহিষ্কার করেনি। বরং তাঁদের পাশেই দাঁড়িয়েছে।

এদিন শশী পাঁজা দাবি করেছেন, ‘হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছেন অমিত শাহ। আবার ৩৫০ কোটিতে যেখানে শুভেন্দুরও সুপারিশ করা প্রার্থীরা রয়েছেন। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই করা হচ্ছে না’। তাঁর আরও দাবি, ‘কাদের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ রয়েছে তার তালিকা দেবে তৃণমূল। এই তালিকায় ৫৯ জনের নাম রয়েছে’। সব শেষে রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের মুখপাত্র শশী পাঁজার দাবি, আমাদের (তৃণমূল) দুর্নীতিগ্রস্ত বলে অনেকে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা আসলে প্রতিহিংসার রাজনীতি বলেই দাবি করলেন শশী পাঁজা ও ব্রাত্য বসু।


More Stories
গাড়ি রহস্য, যত কাণ্ড দত্তপুকুরে
ইন্দ্রনীল সেনের একাধিক ঠিকানায় ইডি হানা
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেস এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি অধীরের