Home » আকাশপথে জুড়ছে পুরুলিয়া, প্রায় ৩০০ কোটি ব্যায়ে হবে বিমানবন্দর

আকাশপথে জুড়ছে পুরুলিয়া, প্রায় ৩০০ কোটি ব্যায়ে হবে বিমানবন্দর

বিমানবন্দর

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ মার্চ: সদ্যই উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে শুরু হয়েছে বিমান পরিষেবা। কলকাতা থেকে নিয়মিত বিমান যাতায়াত করছে কোচবিহারে। এবার বাংলার পশ্চিমাঞ্চলে পুরুলিয়ার পালা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতা থেকে পুরুলিয়া আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সূত্রের খবর, পুরুলিয়ার ছররা এলাকায় যে পরিত্যাক্ত এয়ারস্ট্রিপ রয়েছে সেখানেই নতুন বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও এই ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। খুব শীঘ্রই শুরু হয়ে যাবে নতুন বিমানবন্দর নির্মানের কাজ।

পুরুলিয়ায় ছররাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালের একটি ব্রিটিশ এয়ারস্ট্রিপ ছিল। যেটি আজ পরিত্যাক্ত। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের আধিকারিক, পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা ওই এয়ারস্ট্রিপ পরিদর্শন করেন। দেখা যায়, ছোট থেকে মাঝারি বিমান ওঠানামা করতে পারবে এই এয়ারস্ট্রিপে। এরপরই আলোচনায় ঠিক হয় সেখানে বিমানবন্দর নির্মান করা সম্ভব। জানা যাচ্ছে, পুরুলিয়ার ছররায় নতুন বিমানবন্দর তৈরি করবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আর টাকা যোগাবে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার সমীক্ষার কাজের জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ২৫ লক্ষ টাকা দিয়েছে। সমীক্ষার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।  গোটা প্রকল্পের জন্য খরচ ধরা হচ্ছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকরা মনে করছেন, ছররায় নতুন বিমানবন্দর তৈরি হলে  পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় পর্যটনে জোয়ার আসবে।

আরও পড়ুন  পঞ্চায়েত ভোটের আগে জেলা সফরে অভিষেক, এপ্রিলেই করবেন পাঁচ জনসভা

পুরুলিয়ার ছররায় সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে একটি এয়ারস্ট্রিপ ছিল। এটি ১৭২২ মিটার লম্বা এবং ৩৫০ মিটার চওড়া। সূত্রের খবর, সেই আশির দশকেই এই এয়ারস্ট্রিপ ও সংলগ্ন বিপুল জমি রাজ্য সরকারকে হস্তান্তর করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এতদিন তা অবহেলায় পড়েছিল। পুরুলিয়া শহর থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে এই এয়ারস্ট্রিপ যদি বিমানবন্দরে পরিনত হয় তবে শুধু পর্যটন নয়, নতুন শিল্প স্থাপনেও কাজে আসবে। যদিও পুরুলিয়ার অযোধ্যা সার্কিটকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পে জোয়ার আনতে এই বিমানবন্দর খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে আগামীদিনে। পাশের জেলা বাঁকুড়ার পর্যটনেও এই বিমানবন্দর উপকারী হবে। এছাড়া পিছিয়ে পড়া পুরুলিয়ার আর্থসামাজিক বিকাশে নতুন বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও মনে করছেন পুরুলিয়াবাসী। তাঁরা ইতিমধ্যেই আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন।

উল্লেখ্য, কলকাতা ও শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরের পর দূর্গাপুরের কাছে অণ্ডাল বিমানবন্দরই ছিল রাজ্যের মূল তিন বিমানবন্দর। এরপর কোচবিহারে ছোট বিমানবন্দর চালু হয়। কলকাতা থেকে কোচবিহার বিমান চলাচল শুরুও হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকার চাইছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ছোট বা মাঝারি বিমানবন্দর তৈরি করতে। সেই উদ্যোগেই পুরুলিয়ার ছররায় ব্রিটিশ জমানার এয়ারস্ট্রিপ বেছে নেয় রাজ্য প্রশাসন। আগে থেকেই এখানে রানওয়ে বা কিছু উড়ান পরিকাঠামো থাকায় নতুন বিমানবন্দর তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয়। জায়গাটি দেখে পছন্দও হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। ফলে দ্রুতই কাজ শেষে হবে বলেই মনে করছে রাজ্য সরকার। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়েই চালু হতে পারে পুরুলিয়া।

About Post Author