Home » ডিএ ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের গণ ই-মেইল রাষ্ট্রপতিকে

ডিএ ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের গণ ই-মেইল রাষ্ট্রপতিকে

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৬ মার্চঃ ডিএ আন্দোলনকারীদের একটা অংশ শনিবারই অনশন প্রত্যাহার করেছে। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এবার ডিএ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ দাবি জানালেন আন্দোলনকারীরা। রবিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে গণ ই-মেল পাঠালেন ডিএ আন্দোলনকারীরা। সোমবার মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ই-মেল করবেন তাঁরা, এমনটাই সূত্রের দাবি। জানা গিয়েছে,২৯ মার্চ গণঅনশন এবং ৩০ মার্চ হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে মিছিল করবেন আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন   হলদিয়া-মেচেদা জাতীয় সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, জখম অন্তত ২৭

উল্লেখ্য,কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মতলার শহিদ মিনারে চলেছে তাঁদের আন্দোলন। মাস খানেক আগে তাঁরা অনশনও শুরু করেছিলেন। অনশনের জেরে কয়েকজন আন্দোলনকারী অসুস্থও হয়ে পড়েন। সেসবের জেরে গতকালই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা। তবে আন্দোলন জারি থাকবে। এর আগে গত ১৫ মার্চ ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে ২১ মার্চ অর্থাৎ মঙ্গলবার সময় দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। ফলে মঙ্গলবার চূড়ান্ত শুনানির আশায় দিল্লি গিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু এদিনও তাঁদের আশাহত হতে হয়। এদিন সর্বোচ্চ আদালত জানায় আগামী ১১ এপ্রিল এই মামলার শুনানি হবে। ফলে মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে আন্দোলনকারীদের। ধর্মতলায় আন্দোলনরত রাজ্য সরকারি কর্মচারিরাও এদিনের শুনানির দিকে তাঁকিয়ে ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টে এদিন শুনানি না হওয়ায় কার্যত হতাশ তাঁরা।  আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপতিরা ব্যস্ত থাকায় এদিন ডিএ মামলার শুনানি হল না। তবে এবার প্রথম নয়, এর আগেও চারবার এই মামলার শুনানি পিছিয়েছে। মামলাটি বিচারপতি দীনেশ মহেশ্বরী এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের এজলাসে শুনানির কথা ছিল। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার জানিয়েছে, আগামী ১১ এপ্রিল শুনানি হবে।

আরও পড়ুন    গরু পাচারের মোটা অঙ্কের ‘প্রোটেকশন মানি’ পেতেন সিউড়ি থানার আইসি, দাবি ইডি-র

প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ৩১ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল। সেই মামলারই শুনানি ছিল। রাজ্যের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মচারিদের ডিএ দিতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দাবি, ডিএ তাঁদের অধিকার। তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ায় সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ। ধর্মতলায় শহিদ মিনারের নিচে তাঁরা অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন। বাম-কংগ্রেস, বিজেপি-সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছে। এরমধ্যে প্রতীকী ধর্মঘটও করেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সমাধান সূত্র বের হতে দেরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

About Post Author