Home » রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ছাড়াল রেকর্ড মেগাওয়াট!

রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ছাড়াল রেকর্ড মেগাওয়াট!

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ এপ্রিল: এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপপ্রবাহে জ্বলছে গোটা বাংলা। আর তার সঙ্গেই বেড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। এক মিনিটও পাখার হাওয়ার নিচ থেকে সরলেই অস্থির হয়ে উঠছেন সাধারণ মানুষ। এই মুহূর্তে কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের হাত থেকে একটু স্বস্তি পেতে অনেকেই পাখার পাশাপাশি এসিও চালিয়ে রাখছেন। আর এতেই চাপ বাড়ছে বিদ্যুেৎ বণ্টন পরিষেবার উপর। গোটা রাজ্যে এই মুহূর্তে বিদ্যু তের চাহিদা পৌঁছেছে ৯০২৪ মেগাওয়াটে। যা সর্বকালীন রেকর্ড। এর আগের রেকর্ড ছিল ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট, ৭৮৩২ মেগাওয়াট। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে রাজ্যড বিদ্যুডৎ উৎপাদন সংস্থা, রাজ্যহ বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। মঙ্গলবার বেসরকারি বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা সিইএসসি-র সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২৫২৪ মেগাওয়াট। এটাও সিইএসসি-র ক্ষেত্রে সর্বকালীন রেকর্ড।

রাজ্যড বিদ্যুডৎ দপ্তর সূত্রে খবর, তীব্র তাপপ্রবাহে রাজ্যের প্রতিটি ঘরে বিদ্যু্ৎ পরিষেবা নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে গত কয়েকদিন ধরে দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে টানা বৈঠক করে চলেছেন রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বুধবারও বিদ্যুৎ উন্নয়ন ভবনে প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলির ‘তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা’ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব শান্তনু বসু। বিদ্যুসৎ দপ্তর সূত্রে খবর, বিদ্যু্ৎ বিভ্রাটের অভিযোগ এলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে গোটা রাজ্যে ২৬০০টি ভ্রাম্যমাণ দল টহল দিচ্ছে। তারপরও অবশ্যয সমস্যার দেখা দিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। সোমবার থেকে দফায় দফায় বিদ্যু ৎ বিভ্রাটের অসন্তোষ দেখা দেয় হরিদেবপুরে সহ দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশে। পরদিন সকালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় মহাত্মা গান্ধী রোড অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে আসেন তৃণমূল সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। উত্তরের দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বেশ কয়েকটি অঞ্চল রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত অন্ধকারেই ডুবে থাকে। মধ্য কলকাতার বেলেঘাটা সহ সংলগ্ন অঞ্চলেও সোমবার থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর আসতে থাকে।

আরও পড়ুন   সালমান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শেহেনাজ গিল

বিদ্যুতৎ দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, এখনও পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ও জোগানে বিরোধ না থাকলেও বহু জায়গাতেই নথিভুক্ত চাহিদার থেকে বাড়তি বিদ্যুৎ বেআইনিভাবে টানা হচ্ছে। কোনও বাড়িতে এসি-র জন্য নির্দিষ্ট বিদ্যুতের যে চাহিদা নথিভুক্ত রয়েছে, বাড়তি এসি চালানোর ফলে, তার থেকে বেশি বিদ্যু ৎ খরচ হচ্ছে। পাশপাশি অন্যা ন্য গ্যােজেট ব্যহবহারও বিগত কয়েক বছরে বেড়েছে অনেকটাই। কিন্তু বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাকে সে কথা জানানো হয় না। যার কারণে সংশ্লিষ্ট ট্রান্সফর্মার বা সাব-স্টেশন থেকে আসা ফিডার লাইনের উপরে বাড়তি চাপ পড়ছে। বিদ্যুৎ পর্ষদ সূত্রে খবর, কোনও ট্রান্সফর্মারের যা ক্ষমতা, তার ১২ শতাংশের বেশি চাহিদা তৈরি হলেই ট্রান্সফর্মার বা ফিডার লাইন ‘ট্রিপ’ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে এই কারণেই। পাশাপাশি, মার্চ মাসের শুরু থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বোরো চাষ শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে অনেকটাই। পাশাপাশি তাপপ্রবাহ গরমে চাহিদা আরও বেড়েছে।

About Post Author