Home » কেজিএফ-কে রুখে বাজিমাৎ নাইটদের, চিন্নাস্বামীতে কোহলিদের হারাল নাইটরা

কেজিএফ-কে রুখে বাজিমাৎ নাইটদের, চিন্নাস্বামীতে কোহলিদের হারাল নাইটরা

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৭ এপ্রিল: চার ম্যাচ টানা ব্যর্থতার পর অবশেষে স্বস্তি। আইপিএলে জয়ে ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ব্যাঙ্গালোরের ঘরের মাঠ চিন্নাস্বামীতে ২১ রানের ব্যবধানে কোহলিদের হারাল নাইটরা। এদিন নাইটদের হয়ে ব্যাট হাটে দুরন্ত খেললেন জেসন রয়, নীতীশ রানা আর বল হাতে বাকি কাজটি করলেন আন্দ্রে রাসেল। আইপিএলে পরপর চার ম্যাচ হেরে বেশ চাপে ছিলেন চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের ছেলেরা। সাত ম্যাচ হয়ে গেলেও প্রথম একাদশ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা, সঠিক চার বিদেশী বেছে নেওয়া থেকে বারবার দলের ওপেনিং কম্বিনেশনে পরিবর্তন নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে নাইটদের। তার উপর প্রতিপক্ষ ঘরের মাঠে দুরন্ত ফর্মে থাকা বিরাটদের ব্যাঙ্গালোর। তবে চলতি আইপিএলের প্রথম পর্বের খেলায় ইডেন গার্ডেনে ব্যাঙ্গালোরকে পরাস্ত করেছিল নাইটরা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এদিন মাঠে নেমেছিলেন নীতিশ রানা, আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিনরা।

ম্যাচে টসের ভাগ্য ছিল ব্যাঙ্গালোরের। টস জিতে নাইটদের প্রথমে ব্যাটিং করতে পাঠান আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। জগদীশনের সঙ্গে নাইটদের হয়ে ওপেন করলেন জেসন রয়। জগদীশনের মন্থর ও রয়ের দাপুটে ব্যাটে ভর করে শুরুটা নিজেদের দখলে রাখে কেকেআর। নাইটদের হয়ে ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ রান উঠল এই ম্যাচে। দশম ওভারে নাইট শিবিরে জোড়া ধাক্কা দেন বিজয় কুমার বিশাখ। ডাগ আউটে ফেরান নাইটদের ওপেনিং জুটিকে। ২৯ বলে ২৭ রান করে ফেরেন জগদীশন। সম সংখ্যক বল খেলে ৫৬ রান করলেন রয়। এনিয়ে পরপর দুই ম্যাচে অর্ধশত রান করলেন এই মারকুটে ব্রিটিশ ওপেনার। এরপর অধিনায়ক নীতিশ রানার সঙ্গে দলের হাল ধরলেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। ২৬ বলে ৩১ রান করেন আইয়ার। অপরদিকে রানা খেলেন ২১ বলে ৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস। এছাড়া শেষ দিকে নেমে ১০ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু সিং ও ৩ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন ডেভিড উইজা। পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাঙ্গালোরের সামনে ২০১ রানের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয় নাইট রাইডার্স। চিন্নাস্বামীর ব্যাটিং সহায়ক পিচে এই রান তাড়া করা অসাধ্য নয়। তবে অত্যধিক কেজিএফ নির্ভরতার খেসারত দিতে হল ব্যাঙ্গালোরকে। হ্যাঁ আরসিবির ব্যাটিং ত্রয়ী বিরাট কোহলি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ফাফ ডু প্লেসিস কে এ নামেই এখন ডাকছে ব্যাঙ্গালোর সমর্থকরা।

বুধবারের এই মেগা ম্যাচে কেজিএফের ‘কে’ সফল হলেও বাকিরা নিরাশই করলেন। যদিও বিরাটের সঙ্গে ইনিংসের শুরুটা ইতিবাচক করেন আরসিবির ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার ফাফ ডু প্লেসিস। মাত্র ২ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৩০ রান তুলে ফেলে এই জুটি। তৃতীয় ওভারে নাইট অধিনায়কের একটি সাহসী সিদ্ধান্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। তৃতীয় ওভারে উমেশ বা বৈভবের পরিবর্তে নীতিশ বল তুলে দেন সুয়শ শর্মার হাতে। অধিনায়ককে নিরাশ করেননি সুয়শ। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলেই ডু প্লেসিকে ফেরান তিনি। ৭ বলে ১৭ রান করে ছয় মারতে গিয়ে রিঙ্কু সিংহের হাতে ক্যাচ দিলেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার। তিন নম্বরে নেমে এদিনও ব্যর্থ শাহবাজ আহমেদ। আরসিবি সমর্থকরা ভেবেছিলেন চিন্নাস্বামীতে ফের জুটি গড়ে দলকে জেতাবেন বিরাট ও ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর বলে কভারের উপর দিয়ে মারতে গিয়ে, ম্যাক্সওয়েল মারলেন ডেভিড উইজার হাতে।

আরও পড়ুন   কার্লেস কুয়াদ্রাত কি ইস্টবেঙ্গলের সুদিন ফেরাবেন?

এরপর একাই আরসিবির ব্যাটন হাতে নিয়ে নিয়েছিলেন অধিনায়ক বিরাট। বিরাটকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন মহিপাল লোমরোর। তবে দ্বাদশ ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর বলে লোমরোর ফিরতেই চাপ বাড়ে আরসিবি শিবিরে। এরপরের ওভারে রাসেলের বলে ছয় মারতে গিয়ে আউট হন বিরাট। বাউন্ডারি লাইনে দুরন্ত ক্যাচ নেন ভেঙ্কটেশ। এরপর ব্যাঙ্গালোরের অস্ত্রভাণ্ডারে আর এমন কোনও অস্ত্র ছিল না, যা দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায়। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রানেই থামতে হয় বিরাটদের। নাইটদের হয়ে বরুণ চক্রবর্তী ৩ টি, আন্দ্রে রাসেল ও সুয়স শর্মা দুটি করে উইকেট নেন। আগামী ২৯ শে এপ্রিল ইডেনে নাইটদের প্রতিপক্ষ গতবারের চ্যাম্পিয়ন গুজরাট টাইটানস। সেই ম্যাচে নামার আগে এই ম্যাচ নাইটদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলেই মত ক্রিকেট মহলের।

About Post Author