Home » শরদ পাওয়ারের ইস্তফা প্রত্যাখ্যান করল এনসিপি

শরদ পাওয়ারের ইস্তফা প্রত্যাখ্যান করল এনসিপি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫মেঃ  দীর্ঘ জল্পনার অবসান। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির সভাপতি শরদ পাওয়ারের ইস্তফা প্রত্যাখ্যান করল এনসিপি। শুক্রবার সকালেই ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির দফতরে বৈঠকে বসেন দলীয় সদস্যরা। তারপরই চূড়ান্ত হয় যে শরদ পাওয়ারের প্রত্যাখ্যান গৃহীত হবে না। এখন একটাই প্রশ্ন উঠছে যে,তবে কি এনসিপি প্রধানের দায়িত্বেই থাকছেন শরদ পাওয়ার? এনসিপির সভাপতি শরদ পাওয়ারের ইস্তফা খারিজ ঘিরে এদিন সকাল থেকেই দীর্ঘ জল্পনা শুরু হয়। জানা গিয়েছে,বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শরদ পওয়ারই যাতে এনসিপি সভাপতি থাকেন, তার জন্য দলের কোর কমিটির তরফে  একটি প্রস্তাবনাও পাশ করানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, ইস্তফা প্রসঙ্গে শরদ পাওয়ার দলের সদস্যদের বলেন,‘আমি দলের কয়েকজনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে আমার সিদ্ধান্ত জানাব।’ তবে শরদ পাওয়ারের আসনে কে বসবেন, তা নিয়েও চলছে জোর জল্পনা। ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির প্রধান জয়ন্ত পাটিল জানিয়েছেন, ‘তাঁর পাওয়ারের আসনে বসার কোনও ইচ্ছা নেই।’ উল্লেখ্য, গত ২ মে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শরদ পাওয়ার। এক প্রেস বিবৃতিতে মঙ্গলবার শরদ পাওয়ার এই ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, ভাইপো অজিত পাওয়ারের সঙ্গে সংঘাতের কারণেই তিনি দলীয় প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এদিকে,শরদ পাওয়ার এনসিপির সভাপতির পদ ছাড়ার কথা ঘোষণার পর থেকেই তাঁর অনুগামী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিলেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে শরদ পাওয়ারকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।
শরদ পাওয়ারকে মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাদি-র অন্যতম রূপকার বলা হয়। ১৯৯৯ সালে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হবার পর পি এ সাংমা, তারিক আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে এনসিপি-র প্রতিষ্ঠা করেন শরদ পাওয়ার। ওই সময় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে কিছু মতান্তরের কারণে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এদিন পাওয়ার বলেন, এখনও রাজ্যসভায় আমার তিন বছরের মেয়াদ বাকি আছে। কিন্তু দীর্ঘ এই রাজনৈতিক কেরিয়ারের পর কোথাও থামার কথা ভাবতে হবে। একজনের লোভী হওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আর কোনোদিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না। তিনি আরও বলেন, ১৯৬০ সালের ১লা মে আমি আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলাম। বিবৃতিতে পাওয়ার দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। পাওয়ার জানিয়েছেন, এই কমিটিতে প্রফুল্ল প্যাটেল, সুনীল টাটকারে, পি সি চাকো, নরহারি জিরওয়াল, অজিত পাওয়ার, সুপ্রিয়া সুলে, জয়ন্ত পাটিল, ছগন ভুজবল, দিলীপ ওয়ালসে পাটিল, অনিল দেশমুখ, রাজেশ টোপে, জিতেন্দ্র আওহাদ, হাসান মুশারিফ, ধনঞ্জয় মুন্ডে, জয়দেব গাইকোয়াড় সহ দলের মুখ্য সংগঠনের প্রধানরা থাকবেন। শরদ পাওয়ারের এই ঘোষণার পরেই দলীয় কর্মীরা তাঁর কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। দলীয় কর্মীরা জানাচ্ছেন, তাঁরা এই সিদ্ধান্ত মানবেন না। এই সিদ্ধান্ত থেকে যতক্ষণ না শারদ পাওয়ার সরে আসবেন আমরা এখান থেকে নড়বো না।

About Post Author