Home » প্রয়াত কেষ্ট দা, রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া

প্রয়াত কেষ্ট দা, রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ মেঃ তিনি ছিলেন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি। অল্প বয়সে ফুটবল ছিল তাঁর প্রাণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এসেছিলেন তিনি। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠার দিন থেকেই কেষ্ট দা একনিষ্ঠ ভাবে দলে ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন কংগ্রেসের জেলার সেসময়ের প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতা সৌরেন সেন। তৃণমূলে আসার পরে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদও তিনি সামলান।

২০০৯ সালে তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কার্যকরী সভাপতি ও ছিলেন। সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করলেও কখনই তাঁর অঙ্গুলিহেলনে জেলা রাজনীতি চলে নি, বলা ভালো তিনি সে চেষ্টা করেনও নি। বনেদি মানুষ হলেও কাজে বা মুখে রাজা উজির মারেন নি।নির্বিরোধী ও অজাতশত্রু মানুষটি ছিলেন সবার শ্রদ্ধেয় ও প্রণম্য। তাঁর মুখে হাসি লেগেই থাকত যেকোনো পরিস্থিতিতে আর বিপদে পড়লেই সকলের মুশকিল আশান ছিলেন তিনি। অন্য দলের মানুষ বা নিজের দলের গোষ্ঠী কোন্দলে সমস্যার সমাধানে তাঁর কাছেই যেতেন নেতামন্ত্রীরা। ব্যক্তিগত সমস্যা বলতেও কত মানুষ তাঁর কাছে সবাই যেত। সবই যে তিনি সমাধান করতে পারতেন এমনটাও নয়।

আরও পড়ুন   ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’ নিয়ে কি বার্তা দিল হাওয়া অফিস?


সবাই জানত, তিনি মুখ ফুটে বললে কেউ মুখ ফিরিয়ে নিতে পারবে না। সবার যে তিনি আপনজন ছিলেন। দুয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সিপিএম কংগ্রেস তৃণমূল বা বিজেপি প্রায় সবদলের সবার কাছে তিনি প্ৰিয় ছিলেন। কারও কাকাতুল্য , কারও জেঠুর বন্ধু , এমনকী কারও পিতামহতুল্য হলেও তিনি যে ছিলেন সবার কাছেই দাদা। তাঁর পোশাকি নাম কৃষ্ণ গোপাল ব্যানার্জি হলেও সবাই তাঁকে কেষ্ট দা বলেই ডাকত। এহেন মানুষটি চলে গেলেন। চলে গেলেন ক্রীড়াপ্রেমী, রাজনৈতিক জগতের একটি ব্যতিক্রমী মানুষ। বয়স হয়েছিল, বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই তিনি ভুগছিলেন,তাঁর প্রয়াণকে কেউ অসময়ে চলে যাওয়া বলবে না। উত্তর ২৪ পরগনা রাজনীতির বটবৃক্ষের পতন হল, সবচেয়ে বড় কথা দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক মহলে শোক নেমেছে, আত্মীয় বিয়োগের ব্যাথা অনুভব করছেন সকলে।।

About Post Author