Home » পর্যটকদের জন্য নয়া চমক! এবার চৈতন্য মহাপ্রভুর দেখা মিলবে দিঘাতেও

পর্যটকদের জন্য নয়া চমক! এবার চৈতন্য মহাপ্রভুর দেখা মিলবে দিঘাতেও

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ মে : বঙ্গবাসীর হানিমুন থেকে শুরু করে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার ট্রিপ, সবেতেই আমার প্রথমে বেছে নিই দিঘা যেতে কে না পছন্দ করে। দীঘা এমন এক জায়গা যেখানে পর্যটকদের ভিড় লেগেই রয়েছে। দীঘার সৌন্দর্য, যাতায়াতের নানান সুবিধা থাকার জন্য দীঘার প্রতি মানুষের ঝোঁক আরও বেড়ে গিয়েছে। বছরের ৩৬৫ দিন এখানে ভিড় লেগেই থাকে। এবার দীঘাতে নয়া চমক, দীঘা হতে চলেছে এবার তীর্থস্থানও। দীঘাকে পর্যটকদের কাছে আরও  আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য রাজ্য সরকার নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুরীর ধাঁচে জগন্নাথ মন্দির তো আছেই, তার পাশাপাশি এবার হতে চলেছে চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির। যা পর্যটকদের কাছে নতুন খুশির খবর।

চৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে পায়া গ্রামের ইতিহাস :

দীঘার কাছেই পায়া নামক একটি গ্রামে গড়ে উঠছে এই চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির। যেটি দীঘা থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত। এই গ্রামে আগে একটি চৈতন্য মন্দির ছিল, এই গ্রামের নাম অনুসারে একে পায়া চৈতন্য ও বলা হত। দীঘার পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এই মন্দির গড়ে ওঠার মূল লক্ষ্য হল পর্যটকদের আরও বেশি করে আকর্ষণ করা ও পর্যটন শিল্পে উন্নয়ন ঘটানো। পায়া গ্রামে পর্যটকদের জন্য বিশেষ পরিকাঠামো না থাকায় অনেক পর্যটকই এর আগে এই স্থানে এসেও ফিরে যেত।ফলে এই স্থানের বাসিন্দারা এলাকার স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন।

রামনগর-১ ব্লকের পদিমা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পায়া গ্রামে একটি আকর্ষণীয় চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির গড়ে তোলা হোক এমনই দাবি ছিল এলাকাবাসীদের।তাদের মতে,  এই জায়গার একটি আলাদা মাহাত্ম্য আছে। তাদের মতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভূ নবদ্বীপ থেকে নীলাচল যাওয়ার সময় এই পায়া গ্রামে বিশ্রাম নিয়েছিলেন এবং অন্নগ্রহণ করেছিলেন। আর এই স্মৃতিকে লক্ষ্য করে গ্রামবাসীর একাংশের দাবি ছিল এখানে একটি মহাপ্রভুর মন্দির গড়ে তোলা যা পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ হবে। এর আগে একটি মন্দির ছিলো যা গ্রামবাসীদের মতে মহাপ্রভুর স্বপ্নাদেশে ফলে গড়ে উঠেছিল।তাদের মতে,  গ্রামে এক ব্রাহ্মণ বিধবা মেয়ে বসবাস করতেন তিনি একদিন স্বপ্ন পান। মহাপ্রভু বলছেন ‘দিঘার সমুদ্রে একটি কাঠ ভেসে এসেছে তুই সেই কাঠ থেকে মূর্তি তৈরি করে আমার পুজো কর।’ আর সেই থেকেই স্বপ্নাদেশ মতে একটি কুঁড়েঘরে মহাপ্রভুর পুজো শুরু করে। সেটি গ্রামবাসীর নজরে আসে।

 

প্রথমে এই কাঁচা মন্দির এবং পরে একটি পাকা মন্দির নির্মাণ করে এখানেই মহাপ্রভুর পূজা শুরু হয়। এর পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বড় মন্দির প্রতিষ্ঠা করার, তারই কাজ এখনও চলছে, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মন্দির নির্মাণ কার্য চলছে। যা ভবিষ্যতে একটি আকর্ষণীয় মন্দির হতে চলছে। দুই মেদিনীপুরের মানুষজন ছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্য উড়িষ্যা থেকেও অনেকে এখানে চৈতন্য মহাপ্রভুর পূজা দিতে আসেন।দিঘার পর্যটকরাও এখানে অনেকে ঘুরতে আসেন।চৈত্র মাসে এই স্থানে বিরাট মেলা বসে।

About Post Author