সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ মেঃ প্রায় নিত্যদিনই জেলায় জেলায় চাকরি হারাদের সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এক ধাক্কায় রাজ্যে ৩৬,০০০ শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যার প্রভাব আগামী দিনে পড়তে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। অবৈধ নিয়মের ক্ষেত্রে অভিযোগের তীর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শাসক দলের দিকে। আর তাই জেলার প্রাথমিকে চাকরীহারাদের নিয়ে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসলেন বীরভূম জেলার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা প্রলয় নায়েক। বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিও তিনি। এদিন বোলপুরে প্রায় ৮০০ জন চাকরীহারাদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রলয় নায়েক৷
আরও পড়ুন শরীরকে সুস্থ রাখতে ভরসা রাখুন লিকার চায়ে

শুক্রবারই ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় নিয়োগ পাওয়া ৩৬ হাজার জন অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের চাকরি বাতিল করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতিতে আগে চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ বাতিল আগে হয়নি। আগামী ৩ মাসের মধ্যে ওই শূন্যপদে নিয়োগের নির্দেশও দেন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অনিশ্চিত ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ। ওই শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল টাকা খরচ হবে। এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাক্তন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ টানেন। আদালত জানায়, ২০১৪ সালের টেটের সময় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন মানিকবাবু। তাই বাতিল হওয়া শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যে টাকা খরচ হবে, তা মানিকের কাছ থেকে নিতে পারে রাজ্য সরকার।

উল্লেখ্য, ন’বছর আগের টেটের নিয়োগে দুর্নীতি রয়েছে বলে আদালতে মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তবে তিনি বলেছিলেন, এই প্যানেলের ৪২ হাজার ৫০০ জনের নিয়োগ হয়েছিল। কিন্তু সবাই যে বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন তা নয়। কেউ কেউ পরীক্ষা দিয়ে মেধার ভিত্তিতেও চাকরি পেয়েছেন। তিনি আদালতে বলেন, যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁদের বিষয়ে তদন্ত করা হোক। এই মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগে এই মামলার শুনানিতেই আধ ঘণ্টার নোটিসে জেল থেকে হাইকোর্টে ডাকিয়ে আনা হয়েছিল মানিক ভট্টাচার্যকে। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য। শীর্ষ আদালত বলেছে, ওএমআর শিট জালিয়াতিতে আসল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন মানিকই। দেখা গেল তাঁর সময়ে হওয়া ২০১৪-র টেটে এদিন এতোজনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।


More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
অস্বাভাবিক মৃত্যু মমতার ভাইঝির, নেপথ্যে কী কারণ?
লজে পরকীয়া-ব্যাভিচার, হাতেনাতে পাকড়াও সন্তানের জননী ও প্রেমিকপুরুষ