সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ মে: দেশের নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধনের দিন সংসদ ভবন অভিযানে ডাক দিয়েছিলেন প্রতিবাদী কুস্তিগিররা। সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত দিল্লি। অথচ সেদিকে যাওয়ার চেষ্টা করতেই সাক্ষী মালিক, বিনেশ ফোগত, সঙ্গীতা ফোগত, বজরং পুনিয়াদের কপালে জুটল পুলিশি আটক। জোর করে ধরপাকড় চালিয়ে তাঁদের তুলে দেওয়া হল বাসে। রবিবাসরীয় রাজধানীতে ঘটা এমনই ঘটনার এবার তীব্র নিন্দা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক টুইটে তিনি জানিয়েছেন, ‘যেভাবে দিল্লি পুলিশ সাক্ষী মালিক, বিনেশ ফোগতদের আটক করেছে, তার তীব্র নিন্দা করছি। আমি ওদের সঙ্গেই আছি।’ টুইটে মমতা আরও লেখেন, ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি হল সহনশীলতা। একনায়কতান্ত্রিক শক্তি বিরুদ্ধ মতকে সহ্য করতে পারে না, তাদের জায়গাও দেয় না।’

উল্লেখ্য, নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মমতা যাবেন না বলেছিলেন। এমনকী নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের কথা ঘোষণা করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ১৯টি দল। ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট লেখা হয়েছিল, যেভাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সাইডলাইনে রেখে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই করবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে তা শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, চূড়ান্ত স্বৈরাচারী। প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৮৫, ৮৬ এবং ৮৭ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন ডাকবেন, মুলতবি করবেন এবং লোকসভা ভেঙে দিতেও পারবেন। এছাড়া সংসদের যে কোনও সভা বা যৌথ সভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে পারবেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া বিল, অধ্যাদেশ আইনি স্বীকৃতি পায় না। রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিয়ে তাই নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অসাংবিধানিক বলেই মত বিরোধীদের। বয়কট ঘোষণার পাশাপাশি তৃণমূল দাবি তুলেছিল, রাষ্ট্রপতিকে দিয়েই সংসদ ভবনের উদ্বোধন করাতে হবে।

প্রসঙ্গত,বহু বিতর্কের মাঝেই রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে রবিবার নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন হয়। এদিকে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদে বয়কটের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলি। তবে তারই মাঝে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাশে নিয়ে, ভারতীয় রীতি ও ঐতিহ্য মেনে, নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংসদ চত্বরে প্রধানমন্ত্রী পৌছতেই শুরু হয় যজ্ঞ ও পুজো। বিশেষ পুজোয় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পুজো শেষে ‘সেঙ্গোল’কে প্রণাম করেন নরেন্দ্র মোদি। পরে লোকসভার স্পিকারের আসনের পাশে সেই ‘সেঙ্গোল’ প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। এতদিন প্রয়াগরাজের জাদুঘরে রাখা ছিল একটি সোনার রাজদণ্ড।

আরও পড়ুন নতুন ভবন আত্মনির্ভর ভারতের সূর্যোদয়ের সাক্ষী: মোদি
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি ছাড়াও বহু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া সহ এনডিএ জোট অন্তর্ভুক্ত কমপক্ষে ১৮ জন সদস্য উপস্থিত থাকবেন। এদিন উদ্বোধনী পুজো চলাকালীন নির্মাণকর্মী থেকে সাফাইকর্মী, যারা নতুন সংসদ ভবন তৈরিতে সাহায্য করেছেন, তাদের চাদর পরিয়ে সম্মানিত করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে যে বিশেষ স্মারক তৈরি করা হয়েছে, তা উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন নতুন সংসদ ভবন উদ্বোদনের আগে সংসদ ভবনে স্থাপিত মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে পুস্পাঞ্জলি দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?