স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৩০ মে: আইপিএলের আর পাঁচটা সংস্করণের থেকে এবারের সংস্করণটিকে নিশ্চিত ভাবে পৃথকে রাখবেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ভারতীয় ক্রিকেটের এরকম নাটকীয় টুর্নামেন্ট আইপিএল খুব কম দেখেছে। এবারের আইপিএলকে বিশ্লেষণ করলে, তা টেক্কা দেবে বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্র, নাটক বা অধুনা ওয়েব সিরিজের চিত্রনাট্যকে। রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আইপিএল ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, বৃষ্টির কারণে তা হয়নি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় ফাইনালের রিজার্ভ ডে অর্থাৎ সোমবার। রবিবার ম্যাচ না হওয়ার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়লেও এদিনও সমান উত্তেজনা নিয়ে মাঠমুখী হয় ক্রিকেট পাগল জনতা। বৃষ্টির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই শুরু হল ঐতিহাসিক ফাইনাল। যা শুরু হয়েছিল ২৮ শে মে আর শেষ হল ৩১ শে মে। যা দেখে অনেকে রসিকতা করে বলছেন টি-২০ টেস্ট ম্যাচ। মেগা ফাইনালে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন চেন্নাই সুপার কিংস অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।

এদিন আহমেদাবাদের গ্যালারিতে যে হলুদ জার্সির জন বিস্ফোরণ হয়েছিল তার অনেকটাই কৃতিত্ব এই মানুষটির প্রাপ্য। কারণ, জোর জল্পনা চলছে এটাই নাকি প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের শেষ আইপিএল। ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়েনি গুজরাট শিবির। হার্দিকদের ইনিংসের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন দুই ওপেনার শুভমন গিল ও ঋদ্ধিমান সাহা। এই টুর্নামেন্টে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন গিল। গিলের ব্যাটিং দাপটে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছেন রোহিত শর্মার মুম্বই ও বিরাট কোহলির ব্যাঙ্গালোর। এদিনও তাঁর ব্যাটে দেখা গেল সেই ঝড়। প্রথম পাওয়ার প্লে কে কাজে লাগিয়ে দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন দুই ওপেনার। যদিও বিধ্বংসী গিলকে ফিরিয়ে গুজরাটকে জোর ধাক্কা দেন রবীন্দ্র জাদেজা।
আরও পড়ুন বেঙ্গালুরু এফসি ছাড়লেন তারকা ফুটবলার, এবার লাল-হলুদের পথে?

এক্ষেত্রে প্রশংসা করতে হয় উইকেটের পিছনে ধোনির ভূমিকাও। ধোনি জাদেজা জুগলবন্দির শিকার হয়ে ২০ বলে ৩৯ রানে ফেরেন গিল। এরপর সাহার সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাই সুদর্শন। ৩৯ বলে ৫৪ রান করে ফেরেন বাংলার ঋদ্ধি। এরপর গুজরাট অধিনায়ককে সঙ্গী করে দলকে টেনে নিয়ে যান সুদর্শন। সুদর্শনের ব্যাটের দাপটে এদিন দিশেহারা হয়ে যায় চেন্নাইয়ের বোলাররা। ভাগ্য সহায় হলে আইপিএলে সেঞ্চুরির নজিরও গড়তে পারতেন তামিলনাড়ুর ২১ বছরের ছেলেটা। তবে তার আগেই থামতে হল তাঁকে। ৪৭ বলে ৯৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে পাথিরানার বলে আউট হয়ে ডাগআউটের পথ ধরলেন তিনি। এছাড়াও ১২ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন গুজরাট অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রান তোলে গুজরাট।

বিশাল রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে মাত্র তিন বল খেলেছে চেন্নাই। তারপরই ফের শুরু হয় জোড়ালো বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ম্যাচ থামাতে বাধ্য হন এদিনের ম্যাচ রেফারি জভগল শ্রীনাথ। এরপর প্রায় তিনবার মাঠ পরিদর্শনের পর, অবশেষে ওভার কমিয়ে ম্যাচ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা। ১৫ ওভারে ১৭৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দেওয়া হয় চেন্নাইয়ের সামনে। চেন্নাইয়ের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ওভার প্রতি প্রায় ১২ রান। এই পরিস্থিতিতে পাওয়ার প্লের চার ওভারকে কাজে লাগিয়ে ঝড়ের গতিতে রান তুলতে থাকেন চেন্নাইয়ের দুই ওপেনার রুতুরাজ গায়কোয়াড ও ডেভন কনওয়ে। ৪ ওভারের পাওয়ার প্লে-তেই বিনা উইকেট ৫২ রান তোলে সিএসকে। সপ্তম ওভারে চেন্নাই শিবিরকে জোড়া ধাক্কা দেন আফগান স্পিনার নুর আহমদ। একই ওভারে তিন বলের ব্যবধানে ফেরান চেন্নাইয়ের দুই ওপেনারকে। ১৬ বলে ২৬ রান করে ফেরেন রুতুরাজ। কনওয়ে ফেরেন ২৫ বলে ৪৭ রান করে। দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পরে গিয়েছিল হলুদ জার্সিধারিরা।

কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন অজিঙ্ক রাহানে। ১৩ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে মোহিত শর্মার বলে ফেরেন তিনি। ৮ বলে ১৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন আইপিএলে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা অম্বাতি রায়াদু। রায়াদুকেও ফেরান মোহিত। এরপর ক্রিজে নামেন চেন্নাই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। যদিও এদিন নিরাশ করলেন তিনি। প্রথম বলেই আউট হলেন। এরপর চেন্নাইয়ের হয়ে বাকি কাজটি করেন পিচে থাকা শিবম দুবে ও রবীন্দ্র জাদেজা। ২১ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকলেন দুবে। জাদেজা করলেন ৬ বলে ১৫ রান। শেষ ওভারে চেন্নাইয়ের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। বল করছিলেন একদা চেন্নাইয়ে খেলা মোহিত শর্মা। প্রথম চারটি বলে ব্যাট চালানোর সুযোগই দিলেন না তিনি। শেষ ২ বলে দরকার তখন ১০ রান।
আরও পড়ুন ‘কুস্তিগিরদের আটক লজ্জার’, টুইটে সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তখন ঘরের মাঠে চেন্নাইয়ের হয়ে ত্রাতা হয়ে ওঠেন জাদেজা। প্রথম বলে বোলারের মাথার উপর থেকে বল পাঠালেন প্যাভিলিয়নে। শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪ রান। কিছুক্ষণের জন্য নার্ভ শান্ত হয়ে গিয়েছিল মাঠে উপস্থিত চেন্নাই সমর্থকদের। শান্ত হয়ে মাথা নিচু করে বসে ছিলেন ক্যাপ্টেন কুল। তিনিও বোধ হয় ধারণা করতে পারেননি এই অসাধ্য সাধন করে দখাবেন জাদেজা। লেগ স্টাম্পের ফুলটস বল ফাইন লেগে বাউন্ডারি মেরে দলের জয় নিশ্চিত করলেন স্যার জাদেজা। এরপর দেখা গেল দৌড়ে গিয়ে ক্যাপ্টেনের কোলে উঠে পড়েছেন তিনি। অনেকের মতে এটাই এদিনের সেরা চিত্র। ম্যাচ শেষে প্রিয় অধিনায়ককে জয় উৎসর্গ করলেন জাদ্দু। ক্রিকেট জীবনের গোধূলি লগ্নে এসে নিজের ভক্তদের সামনে আইপিএল ট্রফি জয় করে কথা রাখলেন অধিনায়ক মাহি।


More Stories
হর্ষ – গুরনুরের দুরন্ত অভিষেক, জিতল ভারত
সুভদ্র কেন উইলিয়ামসনের আচমকা অবসর
FIFA Worldcup 2026 : কোরিয়ার চোরাগতিতে বিধ্বস্ত চেকিয়া